CATEGORIES
প্রবচনে নারী
 22 February 2018  

বাংলায় নারীদের সম্পর্কে বেশকিছু প্রবাদ-প্রবচন লক্ষ্য করা যায়।এগুলি প্রাচীন হলেেও আজও প্রাসঙ্গি্ক ও আধুনিক।নারী জাতির মধ্যে সবার আগে যিনি,তিনি হলে্ন আমাদের প্রিয় গর্ভধারিনী মা।এই মা কে নিয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রবাদটি হল 'ভাগের মা গঙ্গা পায় না।'এর অর্থ অত্যন্ত সহজ।আরো তিনটে জনপ্রিয় প্রবাদ-'মাতৃবৎ পরদারেষু' , 'মায়ের গলায় দিয়ে দড়ি, বউকে পরাই ঢাকাই শাড়ি,'এবং 'মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশী।'বউকে জব্দ করার জন্যও প্রবাদ সৃষ্টি হয়েছে'হলুদ জব্দ শিলে,বউ জব্দ কিলে।'কয়েকটি লৌকিক ছড়ায় নারী চরিত্র অসাধারনভাবে ধরা পড়েছে।যেমন-         'নিম তিত, নিশ্চিন্দে তিত,তিত মাকাল ফল          তার চেয়ে তিত কন্যে বোন সতীনের ঘর।'অথবা          'তুফানে যে হাল ধরে না,সেই বা কেমন নেয়ে           কথা পাড়লে বুঝতে পারে না সেই বা কেমন মেয়ে।'নারী বিষয়ে কোন বক্তব্যের সমর্থনে আর নিষেধে এই প্রবাদগুলির ব্যবহার হয়ে থাকে।তবে প্রবাদ গুলি কেবল নারীকেন্দ্রিক বিষয়ে আবদ্ধ নয়,এ যেন পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীকে নৈতিকতার বেড়াজালে আবদ্ধ রাখা।

"ম" মানে মরবেনা মাতৃভাষা
 22 February 2018  
Art

সেই দুধে আলতা রঙের যুবতীর চোখ দুটি ছিল রাইন নদীর মত নীল।নীলনয়নার কাঁধে এসে আটলান্টিক মহাসাগরের মত গর্জন করত সোনালি চুলের অহঙ্কার।এই মেয়ের প্রেমে না পড়ে পারা যায়?হ্যাঁ,আমিও প্রেমে পড়েছিলাম মারিয়া র।তখন সদ্য সদ্য ফেসবুকে ঢুকেছি।সেইসময় ছিল ছবি তোলার নেশা।সময় পেলেই আমার সদ্যকেনা ক্যানন ক্যামেরা নিয়ে বেরিয়ে পড়তাম আর এন্তার ছবি তুলতাম।সেই ছবিগুলি কে ফটোশপে এডিট করে বিভিন্ন ফটোগ্রাফি গ্র্ুপে পোষ্ট করতাম।কম্পিটিশন গুলোতেও নিয়মিত যোগ দিতাম।একটা গ্রুপ ছিল,ছিল মানে এখনও আছে-sunrise and sunset photography..যেখানে সানরাইজ এবং সানসেট এর ছবি পোষ্ট করা হয়।সেখানে সারা বিশ্বের সমস্ত ফটোগ্রাফার রা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের ছবি পাঠান।কী কুক্ষনে আমার মত এক আনাড়ির এক অতি সাদামাঠা সূর্যাস্তের ছবি(যেটি তুলেছিলাম হালিশহরের গঙ্গার ঘাট থেকে) সেই গ্রুপের শ্রেষ্ঠ ছবি(সেই মাসের)(দর্শকের বিচারে) হিসেবে বিবেচিত হল।সারা বিশ্ব থেকে অভিনন্দন আর শুভেচ্ছার বন্যা বয়ে গেল।বিখ্যাত ফটোগ্রাফার রা জানতে চাইছেন আমি ঠিক কোন অ্যাপার্চার ও সাটার স্পিড এবং অ্যাঙ্গেলে ছবি তুলেছি,কেন সাবজেক্ট হিসাবে নদী কে বাছলাম..ইত্যাদি।কেলেঙ্কারি..আমি যে ওসব মাথায় রেখে আদৌ ছবিটা তুলিনি..জাষ্ট তুলে ফেলেছি..তারপর ক্যাসুয়ালি পোষ্ট করে দিয়েছি-তা ওদের বোঝাই কী করে!এই ছবিটা দেখেই আমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েষ্ট পাঠান বিখ্যাত ফটোগ্রাফার শ্রী শক্তি চৌধুরী ও শ্রী পরিতোশ দাস।শক্তি দা ও পরিতোশ দা র কাছ থেকে কত যে অমূল্য টিপস পেয়েছি!তারমধ্যে একটা টিপস ছিল-অয়ন,তোমার প্রতিটি ছবির মধ্যে যেন একটা গল্প লুকিয়ে থাকে।যে ছবিতে গল্প নেই-সে ছবি ছবিই না।একদিন দেখি ছবিটার নিচে বেশ কয়েকলাইন কমেন্ট করেছে এক সোনালি চুলের রাজকন্যা।লেখার মাথামুন্ডু কিচ্ছু বুঝছিনা কারন হরফটাই অচেনা।মেয়েটি চেকোস্লোভাকিয়া তে থাকে।সেও আমারই মত শখের ছবিতুলিয়ে।আমরা বন্ধু হলাম।এরপর দুজনেই যখন ফেসবুকে অন -তখন চ্যাট করলাম-hi maryaমেয়েটি চেক বর্ণমালায় কিছু একটা লিখল।এরপর আমাদের চ্যাট হয়েছিল মোটামুটি এরকম-Don't you know English?Gjhy vgmk hsnjBut I don't know this language..sorry..please write in English..Gnmk bvcxz bmkkggk chhjdfbjj nvxhjkcb nbbcxz mnjkghkWhat's your profession mariya?Zccfdhhdh bncgjjffjjjk nnvxgjnk mmkgfdhj vcghftr vbchfhjআরে এ মেয়ে তো নিজের ভাষার বাইরে অন্য কোনো ভাষাই জানেনা!এর সঙ্গে কথা বলব কী করে?এইবার আমিও দুষ্টুমি শুরু করলাম।তোমার নিজের ভাষার প্রতি অহঙ্কার থাকতে পারে আর আমার পারেনা?অতএব আমিও বিশুদ্ধ বাংলা হরফে লেখা শুরু করলাম।মারিয়া আমি তোমার ঠোঁটে চুমু  খেতে চাই..দেবেতো?Zcvngfgjjbjh vfhgdh hg dg j hg hjjjkkcvjতোমার সোনালি চুলে আমি হারিয়ে যতে চাই....আমি যে বহুদিন কোথাও হারাইনি..তুমি আমার সঙ্গে হারিয়ে যাবে?Dgfghjjju bbdghnxfgnk nngfzhjcxvj bgmhch bhj njfg bb mgdjjকখন তোমার দেখা পাবো,চোখের পাতায় চুমু খাব,চোখের তারায় জিজ্ঞাসা-বলো,কাকে বলে ভালবাসা?Zcfffghj nmvgkk vfgonvg vcfjnbfh nmjএইবার আমার শেষ দুষ্টুমি,কিচ্ছু না লিখে একটা সাইন পাঠালাম। এই সাইনের মানে একটাই।অতএব মারিয়ার কাছ থেকে যে উত্তর টা পেলাম সেটা কিন্তু হায়!আর এগোতে পারিনি।আমরা দুজনে শুধু দুজনের ছবিতে লাইক দিতাম।ও লিখতো-zfdsgh njffjk thidfjj ?আমি উত্তরে লিখতাম-হ্যাঁ হ্যাঁ আমি ভাল আছি,তুমি ভাল তো..একসময় মারিয়া নামের রাজকন্যা টি হারিয়ে গেল।একটা অসাধারন ছোটোগল্প মাঝপথে থেমে গেল।ভাষা হল সেতু।গুপি গাইন বলেছিল না-ভাষা এমন কথা বলে বোঝেরে সকলে,উঁচা নিচা ছোটো বড় সমান-মোরা সেই ভাষাতেই করি গান...-----------------------------------------আজ থেকে ৮০০০বছর আগে নতুন প্রস্তর যুগের মানুষ প্রথম কথা বলতে পেরেছিল।তার আগে মানুষ শুধু শব্দ করে আর ইশারা তে মনের ভাব প্রকাশ করত।কথা বলতে পারার পরও তারা ইশারার ব্যবহার ত্যাগ করেনি।এখনও পৃথিবীর সব দেশের সব ভাষার মানুষের ইশারার ভঙ্গি ও অর্থ এক।এই ভাষা আবিস্কারের ফলেই কিনতু মানুষ পৃথিবীকে ডমিনেট করতে পারল।এই মুহূর্তে পৃথিবীতে ২৭৯৬ টি ভাষা প্রচলিত।তার মধ্যে প্রধান ভাষা ১৬০টি।আর ভারতে ১৬৫২টি ভাষার মধ্যে প্রধান ভাষা হল ২২টি।যথা-হিন্দি,বাংলা,তেলেগু,তামিল,মারাঠি,গুজরাটি,মালয়ালম,কন্নড়,ওড়িয়া,পাঞ্জাবি,অসমিয়া,সিন্ধি,নেপালি,কোঙ্কনি,মণিপুরি,কাশ্মীরি,সংস্কৃত,বোরো,ডোগরি,মৈথিলি ও সাঁওতালি।মজা হল-অঞ্চলভেদে আমাদের বাংলা ভাষার কথ্য রূপও পাল্টে যায়।মজা দেখুন-কলকাতা-ছোটো ছেলেটি তার বাবাকে বললঢাকা-ছোটো ছাওয়াল তার বাপেরে কইলোকোচবিহার-ছোটো বেটা উয়ার বাপোক কইলোপুরুলিয়া-ছুট্ বেটা তার বাপকে বল্লেকচট্টগ্রাম-ছোড়ুয়া পোয়া তার ব-রে কইলো।-----------------------------------এই যে আমরা গল্প লেখার জন্য একেবারে মুখের ভাষা ব্যবহার করি-এর সুচনা হয় ১৮৫০সালের পর থেকে।কারন লেখকরা কিছুতেই অশিক্ষিত বা কম শিক্ষিত মানুষের কাছে পৌঁছতে পারছিলেননা।এইবার মুশ্কিল হল একএক জায়গার তো একএক কথ্যরূপ।তাহলে কোনটা নেওয়া হবে?এইসময় বেশ একটা পলিটিক্স হয়েছিল।কলকাতা,নদীয়া,২৪পরগনা তে যেহেতু পন্ডিত দের সংখ্যা বেশি-অতএব এখানকার কথ্য ভাষাই সাহিত্যের ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেল।এইবার ভাষা হয়ে উঠল জীবন্ত।লেখকরা সাধারন মানুষের মনে জায়গা পেলেন।একটা কথা জানলে অবাক হই যে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে আজ থেকে ১০০০ বছর আগে অথচ বাংলা ব্যকরন প্রথম রচিত হয় মাত্র পৌনে তিনশো বছর আগে।শুনলে অবাক হবেন প্রথম বাংলা ব্যকরন লেখেন একজন সাদা চামড়ার সাহেব।নাম-মানোয়েল দ্য আস্সুম্পসাম।১৭৪৩সালে পোর্তুগালের লিসবন শহরে রোমান অক্ষরে তা ছাপা হয় কারন 'ছাপার' জন্য বাংলা অক্ষর তখনও তৈরি হয়নি।১৭৭৮সালে নাথানিয়েল হ্যালহেড নামের এক ইংরেজ ইংরেজি ভাষায় একটি বাংলা ব্যকরন বই লেখেন যেখানে প্রথম ছাপার সময় বাংলা অক্ষর ব্যবহৃত হয়।রাজা রামমোহন রায় হলেন প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ব্যকরণ বই লেখেন ১৮২৬ সালে।দুঃখের বিষয় এই বইটিও ইংরিজিতে লেখা।১৮৩৩সালে এই বইয়ের বাংলা অনুবাদ বাজারে প্রকাশিত হয় ও অচিরেই তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।(তথ্য সংগ্রহ-রণেন গুপ্ত-নবোদয় ব্যকরণ)নিজের ভাষাকে মাতৃভাষা বলে কে যে সম্বোধন করেছিল কে জানে,তবে এর চেয়ে মোক্ষম শব্দ আর নেই।মায়ের মতই প্রিয় হয় ভাষাও।আমার বড় গর্ব হয় আমি বাংলায় লিখি বলে।অথচ আমাদের ছেলেমেয়েগুলো কে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াই বলে ওরা বাংলা ভাষাকে অপছন্দ করে,বাংলা পড়তে গেলে জ্বর আসে।ইংরিজি ওদের ভালবাসার ভাষা।আজকের অধিকাংশ মা এর ঠাঁই যেমন বৃদ্ধাশ্রমে তেমনি মাতৃভাষা টাও বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই পাবেনাতো?অন্তত তার আগে যেন আমার মৃত্যু হয়।

মখমলি ফুলকপি
 21 February 2018  

উপকরনঃ- ১ টি ফুলকপি(মাঝারি টুকরো করা),কাজুবাটা(৮/১০ টি),আদা(১ ইঞ্চি),২টি বড় টম্যাটো,হাফ কাপ দুধ,কসুরি মেথি(সামান্য),লঙ্কাগুঁড়ো পরিমান মতো,নুন,মিষ্টি,রিফাইন্ড তেল,ঘি অল্প,ছোট এলাচ ৩টিপ্রণালী ঃ- ফুলকপি জলে ভাপিয়ে জল ফেলে দিন।কাজুবাদাম দুধে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে মিহি করে বেটে নিন।টম্যাটো এবং আদা মিক্সিতে বেটে নিন।এবার কড়াইতে রিফাইন্ড তেল দিন।তেল গরম হলে ফুলকপির টুকরোগুলো ভালো করে ভেজে তুলে রাখুন।এবার কড়াইতে সামান্য ঘি দিয়ে ছোট এলাচ ফোড়ন দিন।সুগন্ধ বের হলে আদা এবং টম্যাটো বাটা দিয়ে কষুন।এবার নুন,মিষ্টি লঙ্কাগুঁড়ো দিন।মশলা কষানো হলে ভাজা ফুলকপি আর সামান্য জল দিয়ে ঢাকা দিন।কপি সেদ্ধ হলে কাজুবাটা আর কসুরি মেথি দিন।এবার দুধ দিয়ে ফুটিয়ে গা মাখামাখা হলে নামিয়ে নিন।এটি ভাত,রুটি পরটা সবকিছুর সাথে ভালো লাগে।

মাতৃভাষা দিবস
 21 February 2018  

"যে ভাষার জন্যেএমন হন্যে, এমন আকুল হলাম-সে ভাষা তে আমার অধিকার"।আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।আমরা যারা বাংলায় সামান্য লেখালিখি করি তাদের কাছে আজ এক পূণ্যতিথি।আজ এক পুজোর ও উৎসবের দিন।কিন্তু মাতৃভাষাকে আমরা-মানে এপার বাংলার বাঙালি রা ঠিক কতখানি সম্মান ও সমাদর করতে পেরেছি!চতুর্দিকে বিদেশী ভাষার জয়জয়াকার।আমাদের ছেলেমেয়েরা প্রায় কেউই বাংলা মাধ্যমের ছাত্রছাত্রী নয়।তারা ঠিক কতখানি বাংলা সাহিত্য পড়বে ও বুঝবে!আমাদের পরের প্রজন্ম বাংলা সাহিত্য সেভাবে পড়বেইনা।তারা বাঙালি লেখক বলতে বুঝবে অমিতাভ ঘোষ কে।বাংলা সাহিত্যের এই বিপুল রত্নভান্ডার হয়তো ধুলি ধুসরিত হয়ে পড়ে থাকবে।এই অভিশাপের থেকে বোধহয় আমাদের পরিত্রান নেই।অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে আমি দেখতে পাচ্ছি আজ থেকে পঞ্চাশ ষাট বছর পরে বাংলাভাষা শুধুই বেঁচে থাকবে বাংলাদেশে আর পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হবে ইংরেজী ও বাংলা মেশানো এক জগাখিচুড়ি ভাষা।সেইসময় এক কিশোরী তার দাদুকে হোয়াট্সঅ্যাপ করবে-"কখন থেকে ওয়েটিং ফর ইউ বাট তুমি আমাকে এখনও রেপ করলে না!দাদু হয়তো ভিরমি খেয়ে পড়তে পড়তে অবশেষে বুঝতে পারবে-রিপ্লাই এর ছোট সংস্করন হল রেপ।কবীর সুমন বহুদিন আগে লিখেছিলেন -"পুবের ঐ উদ্বোধনে পশ্চিমেরও বোধন হোক/একুশে ফেব্রুয়ারী আমার আলো আমার চোখ"॥

প্রেমিকা এবং আমি
 21 February 2018  
Art

#প্রেমিকা_এবং_আমি--------------------© সিলভিয়া ঘোষ ---কি হলো রাস্তার মধ্যে এইভাবে কেউ হাত ধরে চুমু খায় ?----কি হয়েছে একটু আদর করলে ?তুমি তো আমার !---সে যতই তোমার হইনা কেন সবকিছুর একটা স্থান ,কাল ,পাত্র থাকে তো নাকি ?---পাগলী,  এটা বিদেশ ! এখানে হাত ধরলে বা প্রকাশ্যে চুমু খেলেও কেউ কোন প্রতিবাদ করেনা ।---ছিঃ ,তুমি এতটা পাল্টে যাবে ভাবতে পারিনি।তবে যে আগে বলতে......----আজও  বলছি 'প্রিয়তমা তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা '.....---থামো থামো কত যে ভালোবাসো তা বোঝা গেছে !কই আজ যে অন্যকারোর প্রেমিকার সাথে আমার তুলনা করলে না ? কি ব্যাপার বলো দেখি ?---তুলনা আর তোমার সাথে ? হা হা পাগলী তোর এলোমেলো চুল যখন আমার মুখে এসে পড়ে  আমি আমার মা এর গায়ের গন্ধ পাই,তোর দুচোখে চোখ রাখলে আমি যে আমার মায়ের জলচ্ছবি দেখতে পাই,তোর হাতে হাত রাখলে আমার তোর সব অনুভূতি মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় আর .....----আর কি বলো না !----আর তোর দু ঠোঁটে ঠোঁট রাখলে আমার সব উচ্চারিত --অনুচ্চারিত কথারা প্রকাশিত হয়।লড়াই তো অনেক দেখেছিস কিন্তু  তোকে নিয়ে  আমার এই লড়াই ক' জনা দেখেছে বলতো !আজ তোকে বড্ড ভালো লাগছে রে। এবার থেকে এমনি সব সময় সেজে থাকবি !কেমন থাকবি তো ?----আহা কত আমাকে ভালোবাসার বর্ণনা শুনালে তা দেখলাম .....সারাক্ষণ শুধু 'মা ' 'মা '।তা তোমার মায়ের নাম না কি শুনি ?---একি তুমি জানো না! আমার মায়ের নাম তো --'বাংলা ভাষা'।----তা হলে আমি ? আমি কে ?--- --তুমি ,তুমি হলে আমার 'শব্দ কণিকা'।এইভাবেই সারাটা জীবন আমার পাশে থেকো ,দৃঢ় ভাবে  ধরো  আমার দু হাত।আজ চিৎকার করে বলতে চাই 'ভালোবাসি  ভালোবাসি ভীষণ ভালোবাসি  তোমায় স্বরমালিকা' ।

আ মরি বাংলা ভাষা
 21 February 2018  
Art

#আ মরি বাংলা ভাষা#দেবদত্তা ব‍্যানার্জীএকটু জেদ করেই মিতা ছেলেকে ঐ দূরের কনভেন্টে ভর্তি করেছিল। বাড়ির কাছাকাছি যে দুটো ইংরেজী স্কুল ছিল একটাও কনভেন্ট না এই ছিল মিতার বক্তব্য। রমা দেবী দীর্ঘ দিন শিক্ষকতা করেছেন এই এলাকারই একটি সরকারী বাংলামাধ‍্যম স্কুলে। কিন্তু ওনার পুত্রবধু মিতা এই বাংলা স্কুলের চাকরিকে পাত্তাই দেয় নি কখনো। মিতা নিজেও কনভেন্টে পড়েছে, ছেলেকে ও কনভেন্টে না পড়ালে নাকি ভবিষ্যত নেই......। রমাদেবী দু এক বার বোঝাতে গিয়েও হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। আসলে এ সব নিয়ে ছেলের বৌএর সাথে বেশি কথা বলতে ওনার রুচিতে বাধতো।ঋত খুব ভাল ছেলে।খুব বুদ্ধিমান। ওর ওপর যা চাপ দেখে রমাদেবীর খুব কষ্ট হয়। ভোরে উঠে সেই দূরের স্কুলে যেতে হয় ওকে। ফিরতে ফিরতে বিকেলে তিনটা।বিকেলে আবার সাঁতার, ক‍্যারাটে, আ্যবাকাস,আঁকার ক্লাস থাকে।সন্ধ‍্যায় টিচার আসে পড়াতে।আগে স্কুল থেকে ফিরে একটু ঠাম্মির কাছে আসত ঋত। আজকাল আর সময় পায় না। এর মধ‍্যে মিতার আবার শখ ছেলেকে একটা দাবা নয় টেবিলটেনিস শেখাবে। সাঁতারের সিজিন শেষ হলেই ভর্তি করবে ভেবেছিল মিতা। শুভর আবার ইচ্ছা ছেলেকে গান শেখাবে। কিন্তু মিতার বক্তব‍্য গান প্রাকটিস করার সময় নেই ঋতের। গান কি শুধু শিখলে হয়। প্রচুর গলা সাধতে হয়। তার চেয়ে গিটার ভাল। ঋতের ইচ্ছা অনিচ্ছার কথা কেউ ভাবতো না। ওইটুকু ছেলের আবার কিসের ইচ্ছা আর শখ !! ঋত শুধু সব কিছু করেও একটু ঠাম্মার সাথে সময় কাটাতে চাইতো। কিন্তু ওর জীবনে সময়ের যে বড্ড অভাব ছিল।সে দিন সন্ধ‍্যায় হঠাৎ ঋত এসে ঠাম্মীকে ধরলো -"আমায় একটু বাংলা শেখাবে ঠাম্মী।"-"আমি তো শেখাতেই পারি, কিন্তু ভাই মা বাবা যদি বকে?"রমাদেবীর কথায় ঋতের মুখটা কালো হয়ে গেলো। মিতার ইচ্ছাতে ওর স্কুলের দ্বিতীয় ভাষা হিন্দি। এ বছর ও ফাইবে ওঠার পর ও তৃতীয় ভাষা বাংলা নিতে চেয়েছিল, কিন্তু ওর বাবা মা বলেছিল ফ্রেঞ্চ নিতে। একটা ফরেন ল‍্যাঙ্গয়েজ শেখা যে ওই ৯বছরের বাচ্চাটার জন‍্য খুব দরকার ছিল।মাঝে মাঝে রমাদেবী ভাবেন শিক্ষা ব‍্যবস্থাতে কতো পরিবর্তন এসেছে। ওনার শ্বশুরমশাই ছিলেন বাংলাভাষা আন্দলনের একজন শহীদ, আর আজ ওনার নাতির কাছে এই মাতৃভাষা ডেড ল‍্যাঙ্গয়েজ। রমাদেবী বাংলা মাধ‍্যম স্কুলে অঙ্কর দিদিমনি, অথচ নাতিকে ওনার পড়াবার অধিকার নেই। ওনার পুত্রবধু ইংলিশ মিডিয়ামের অথচ নিজে না পড়িয়ে টিচার রেখেছে ঐ ৯বছরের ছেলের জন‍্য। বাড়ীতে ঋতের বাংলা বলা বারন। সারাক্ষন ইংলিশ না বললে নাকি ওর কথা সাবলীল হবে না। রমাদেবীর মাঝেমাঝে খুব কষ্ট হয়, অথচ কিছু বলতে পারেন না। মিতাকেও উনি দোষ দিতে পারেন না, চারদিকে সবারি এক অবস্থা, সব বাচ্চা গুলো ছুটে চলেছে। এ এক অদ্ভুত প্রতিযোগিতা। মিতার চিৎকারে বাইরে আসতে বাধ‍্য হলেন রমাদেবী। যা বুঝলেন স্কুলের বার্ষিক ট‍্যালেন্ট কনটেস্ট এ ঋত কোন বিষয়েই প্রাইজ পায় নি। খুব বকা খাচ্ছে ছেলেটা। ওর সব বন্ধুরাই নাকি কোন না কোন বিষয়ে প্রাইজ এনেছে। রমাদেবী নাতিকে আড়াল করে নিজের ঘরে নিয়ে আসেন। এরপর শুভ ফিরলে আর এক চোট হবে জানা কথা। বিধস্ত ঋতের সাথে কথা বলে উনি বোঝেন যে বাচ্চাটা কোনো কিছুতেই আনন্দ পাচ্ছে না। অথচ ঋত বরাবর দারুন ছবি আঁকতো। ক‍্যারাটে আর সাঁতারেও প্রচুর প্রাইজ আনতো এতোদিন। ওর জন‍্য খুব কষ্ট হয় রমাদেবীর। গল্প বলে ওকে ভোলানোর চেষ্টা করেন উনি। না খেয়েই ঘুমিয়ে যায় ঋত।আজ মিতা আর শুভ খুব ব‍্যস্ত। ঋতের স্কুলে আজ আ্যনয়েল ডে, ভাষা দিবস উপলক্ষ‍্যে স্কুলে বাংলা ভাষায় বক্তব্য রাখার প্রতিযোগিতা হয়েছিল, সারা স্কুলের মধ‍্যে প্রথম হয়েছে ঋত। ওর হাতে প্রাইজ তুলে দিয়ে ওকে কিছু বলতে অনুরোধ করলেন প্রিন্সিপাল । শুভ আর মিতা অবাক হয়ে দেখল ঠাম্মীর কাছে শোনা নিজের প্রপিতামহের ভাষা আন্দোলনের গল্প সুন্দর গুছিয়ে বলে চলেছে তাদের কনভেন্টে পড়া ছেলে। রক্তে যে ভাষার টান তাই দিয়ে এক অপূর্ব ছবি একে চলেছে ঋত। অজান্তেই বাবা মা এর চোখ জলে ভরে ওঠে।