Home
Quotes New

Audio

Forum

Read

Contest


Write

Write blog

Log In
CATEGORIES
১৬ না ১৭ ❓
 25 August 2021  
Art

"Netaji Subhash Chandra Bose and Germany" এই বই টাতে অনেক লেখকই লিখেছেন,অনিতা পাফও লিখেছেন,এবং বলা বাহুল্য যে উনি অনেক আজগুবি তথ্য সুভাষ চন্দ্র সম্পর্কে লিখেছেন, যেগুলো পড়লেই বোঝা যায় ,যে এসব মিথ্যে,রাগ এর থেকে বেশী হাসিই পায় । যাই হোক,আজকে এখানে অনিতা পাফ কে নিয়ে বলার জন্য আমি আগ্রহী নই,যেটা বলার জন্য এই পোস্ট করা , তা হলো যে ,এই বইটাতে কৃষ্ণা বসু ও লিখেছেন,এবং উনি লিখেছেন যে সুভাষ চন্দ্র ১৬-১৭ জানুয়ারি কলকাতার এলগিন রোড এর বাড়ি থেকে গ্রেট এসকেপ করেন ,এবং শিশির কুমার বোস তাকে হেল্প করেন।তো এখানে আমার প্রশ্ন হলো যে কৃষ্ণা বসু জানেন না যে সুভাষ চন্দ্র ঠিক কবে গৃহ ত্যাগ করেছেন? ১৬ ? নাকি ১৭? কৃষ্ণা বসু ১৬ ও ১৭ দুটো দিনের কথাই লিখছেন।উনি একসাথে ,দুই দিনই গৃহত্যাগ করতে নিশ্চয়ই পারেন না!হয়তো ১৬ তারিখে বেরোবেন,না হয় ১৭ তারিখে বেরোবেন। দুটো তারিখ এর মাঝখানে হাইফেন দেওয়ার উদ্দেশ্য কি?উনি কি সঠিক তারিখ টা জানতেন না?এই লেখা পড়ার পর কেউ ওনাকে জিজ্ঞেসও করেনি ,যে শ্রীমতী কৃষ্ণা বোস,উনি আসলে কবে বেরিয়েছিলেন?১৬ ? না ১৭ ? ঠিক করে বলুন।অদ্ভুত না?খোদ ওনার স্বামী গাড়ি চালিয়ে নিয়ে গেলো ,আর উনিই কিনা তারিখ সঠিক ভাবে জানেন না?আসলে ,এই বইতে লেখার আগে,ওনার স্বামীর সাথে বসে বোঝাপড়া করে একটা তারিখ ঠিক করে তবে এই বই তে লেখা উচিত ছিল।আসলে শিশিরও date টা জানত কিনা সন্দেহআপনারা নিজেরাই পড়ুন ।আমি বই এর পাতা গুলিতে 1,2,3,4,5,6,7 দিয়ে নাম্বারিং করে দিয়েছি ,আপনাদের সুবিধের জন্য। এমিলে সম্মন্ধে আজ বিশেষ কিছু বলবো না ,তবে এটুকু বলবো ,যে এমিলি জানতেন ,যে স্বাধীন ভারতের প্রাইম মিনিস্টার, জওহারলাল নেহেড়ু, সুভাষের এর  আত্মত্যাগ,কষ্ট,সংগ্রাম এর কথা, সমস্ত মানুষকে ভুলিয়ে দেবার চেষ্টা করছেন।সবাই যাতে সুভাষচন্দ্রকে ভুলে যায় ,তারই প্রচেষ্টা চলছে (সূত্র:এমিলি কে লেখা শিশিরের চিঠি)। অথচ উনি তার কোনো প্রতিবাদ করেননি। Vienna files এ দেখতে পাওয়া যায়,যে নেহরু যতো বার ভিয়েনা গেছেন, এমিলি-অনিতার সাথে যোগাযোগ  করেছেন ,একসাথে সকালের জলখাবার সেরেছেন। এমিলি কিন্তু একবারও নেহরু কে বলেনি যে আপনি আমার (so called) স্বামীকে ইন্ডিয়া তে বন্ধ কেন করে দিচ্ছেন? উনি যদি সত্যিই সুভাষের স্ত্রী হতেন ,তাহলে উনি এর প্রতিবাদ করতেন। উনি করেননি ,কারণ প্রতিবাদ করলেই নেহরু যে প্রতিমাসে টাকা পাঠাচ্ছে,সেটা বন্ধ হয়ে যাবে। উনি নেহরুর টাকায় মদ খেয়েছেন, সিগারেট ফুকেছেন, আর চুপ থেকেছেন নিজের স্বার্থের জন্য।শেষ জীবনে এসে যে ওনার যে বোধোদয়  হয়েছিল ,সেটা পরের ব্যাপার (কারণ তখন তিন কাল গিয়ে এক কালে থেকেছে -ভগবানের কাছে যেতে হবে -ভগবানের কাছে কি জবাব দেবেন?)। মোদ্দা কথা হলো যে,উনি সারা জীবন সুভাষের স্ত্রী হিসেবে ভারত সরকারের কাছ থেকে টাকা খেয়েছেন, অথচ সুভাষের ওপর উনি অন্যায় হতে দেখেছেন,কিন্তু তার জন্য কিচ্ছু করেননি।___________________________________® All rights strictly reserved by Simanta Nandi.

স্বাধীনতা!স্বাধীনতা!স্বাধীনতা!
 15 August 2021  

কার স্বাধীনতা? কীসের স্বাধীনতা? প্লিজ একটু বলবেন।আরে মশাই পাগল নাকি? স্বাধীনতা মানে বোঝেন না, আমাদের দেশ স্বাধীন, আমরা যা কিছু করতে পারি। তাই নাকি? কিন্তু দেশপ্রেমিকরা স্বাধীনতা মানে অন্য কিছু বলতেন। স্বাধীনতা মানে অরাজকতা নয়। স্বাধীনতা মানে শুধু ১৫ ই আগস্ট নয়। স্বাধীনতা মানে দেশ প্রেম, দেশকে মা রূপে পরিগণিত করা- "আমার জননী আমার মা, আমার জননী আমার দেশ"। স্বাধীনতা মানে এক দিনের ছুটি নয়, নয় পতাকা উত্তলন, নয় ক্লাবে ক্লাবে উচ্চস্বরে মাইক বাজানো। এই মুহূর্তে স্বাধীনতার ৭৪ বছর পেরিয়ে আমরা কি স্বাধীনতার সঠিক মূল্যায়ন করতে পারছি!আত্মমর্যাদার জন্য যদি কাউকে আত্মহত্যা করতে হয়, নূন্যতম বেঁচে থাকার অধিকারটা যদি পাওয়া না যায়, অথবা প্রত্যেক মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারটা যদি কারও দয়া দাক্ষিণ্যের উপরে নির্ভর করতে থাকে, তবে কি আমরা স্বাধীন? আমার দেশ কি স্বাধীন? অনেক দেশপ্রেমিক মনে করতেন- স্বাধীনতার পরেও কম পক্ষে পাঁচ বছর মিলিটারি শাসন দরকার। দেশের যুব সম্প্রদায়ের চরিত্র গঠন ও নিয়মানুবর্তিতা শেখার জন্যে।স্বাধীনতার অর্থ- দেশকে একটি সুদৃঢ় ভিতের উপরে দাঁড় করানো; দেশের মানুষের নূন্যতম প্রয়োজন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বস্ত্র ও বসবাস যোগ্য স্থানের চাহিদা পূরণে সক্ষম করে তোলার সাথে কর্মসংস্থান ও বিজ্ঞান বিষয়ক দিকে দেশকে স্বনির্ভর করে তোলা। স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে স্বাধীনতার বিরুদ্ধাচারণ করা, স্বাধীনতার অর্থ দেশের প্রতি আরও কর্তব্য পরায়ণ হওয়া।স্বাধীনতার অর্থ এটা নয় যে মানুষের দ্বারা তৈরি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সিঁড়ি বানিয়ে ক্ষমতা দখল আর সিংহাসনে বসে তার অপব্যবহার করা। এই ক্ষমতা দখলের সিংহাসনটি হতে পারে গ্রামের সালিশি সভার প্রধানের সিংহাসন অথবা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের সিংহাসন অথবা কোনও রাজ্যের মন্ত্রিবর্গের সিংহাসন অথবা দেশের প্রধানমন্ত্রীর সিংহাসন। তাই স্বাধীন দেশের স্বাধীন জনগণের উচিত কোনও ব্যক্তিকে ক্ষমতা দখলের সিংহাসনে বসাবার আগে সেই ব্যক্তির ন্যূনতম অন্তর্নিহিত মূল্যবোধের ও তার শিক্ষার সঠিক মূল্যায়ন করে নেওয়া। নচেত্ স্বাধীনতার অপব্যবহার করার দায় শুধু সেই ব্যক্তি বিশেষের উপরে বর্তায় না, সাথে সাথে স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিকের শিক্ষা, বুদ্ধি ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে একটি প্রশ্নচিহ্ন উঠে যায়। জনগণ যদি জ্ঞানত কোনও অসৎ ব্যক্তিকে সিংহাসনে বসায় তাহলে অসৎ ব্যক্তি অপেক্ষা জনগণ বেশি দোষী।দেশ উন্নত হচ্ছে- ‘আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে’- দামি দামি অস্ত্র কিনছি- পরমাণু সমৃদ্ধ আমার দেশ। কিন্তু আসল অস্ত্রটি সঠিক ভাবে বানানো গেল না। সমস্ত জনগণকে সঠিক শিক্ষা দেওয়া গেল না। দেশ যান্ত্রিক অস্ত্রে পরিপূর্ণ কিন্তু জনগণের অভ্যন্তরীন ‘অস্ত্র’ নেই। বিদেশি শক্তিকে আমাদের সাথে লড়াই করে জয় লাভ করতে হবে না। শুধু অশিক্ষার আগুনে বাতাস দিলেই দেশ জ্বলে ছারখার হয়ে যাবে। কোনও অস্ত্রই কাজে আসবে না। অশিক্ষার কারণে আরও বেশি করে জন্ম নেবে দেশের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদের চাহিদা, যা মেটাতে প্রচুর দাম দিয়ে কেনা অস্ত্র বিদেশি শত্রুর বিরুদ্ধে ব্যবহার করার আগেই দেশের মধ্যে বিলীন হয়ে যাবে। সত্যি কথা বলতে কি, ইংরেজরা যে শুধু অনেক অনেক অস্ত্র নিয়ে ভারতমাতাকে পরাধীন করে রেখেছিল তা কিন্তু নয়। ওরা ওদের শিক্ষা নিয়ে এল, আর যাওয়ার সময় স্বাধীন করে দেওয়ার নাম করে একটি দেশকে দুই ভাগ করে গেল। সাথে সাথে সারা জীবন একটি ক্রেতা নিশ্চিত করল যে কিনা অস্ত্র কিনেই যাবে শুধু নিজের দেশের মধ্যে গজিয়ে ওঠা বিচ্ছিন্নতাবাদকে মেটাবার জন্যে। স্বাধীনতার সঠিক অর্থ একমাত্র হতে পারে দেশের জনগণের ন্যূনতম সঠিক শিক্ষাদানের অঙ্গীকারে ব্রত হাওয়া। শিক্ষাই পারে সব পরাধীনতার থেকে মুক্ত করতে। অন্ধকারে আলো জ্বালাতে। দেশের জনগণের শিক্ষা বিনা, সমস্ত স্বাধীনতাই পরাধীনতার শিখলে বাঁধা।আমার দেশ স্বাধীন- কোনও হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করতে পারার অধিকারের স্বাধীনতা আমরা অর্জন করেছি। তাতে কোনও সমস্যা নেই, হয়ত বা ৬০ কি ৭০ জন মানুষই বা মারা গেছে, ১৫০ কোটি জনসংখ্যাতে কোনও প্রভাব পড়বে না, দু’দিনের মধ্যে দরিদ্র সাধারণ মানুষ সব ভুলে যাবে, তারা কোনও দিনও জানল না যে সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারটা একটি স্বাধীনতা।দেশের বড় বড় মন্ত্রী মশাইরা প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড অট্টালিকা বানাচ্ছেন যার নাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। তা দিয়ে নাকি স্বাস্থ্য খাতে রেনেসাঁ জন্ম নেবে, তবে দুঃখের বিষয় হল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ভিতরে রুগীদের করুণ আর্তনাদ শুনলে বোঝা যায় যে কি বিপুল আকারে জনগণের সাথে প্রতারণা চলছে। এক দল ক্ষমতাশীল মানুষ সাধারণ জনগণের অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার জন্যে দেশের চরম ক্ষতি করে যাচ্ছে শুধু সাধারণ মানুষকে সামনে রেখে। দেশের মধ্যে চিকিৎসা শাস্ত্রের জন্য ভাল কোনও বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হচ্ছে না, সব ব্যক্তিতান্ত্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিগণিত হচ্ছে, অর্থের বিনিময়ে শংসাপত্র বিক্রি হচ্ছে, আর যারা তা কিনছে তারা সেই অর্থ নিজেদের গৃহে পুণরায় গচ্ছিত করার জন্যে সাধারণ মানুষের যে কোনও রকমের ক্ষতি করতে দ্বিধা করে না। ৭১তম স্বাধীনতা দিবসে দাঁড়িয়েও সাধারণ মানুষ প্রতি দিন সহ্য করে নিচ্ছে অশিক্ষার চাবুকের ঘা। তারা আজও জেনে উঠতে পারল না যে স্বাস্থ্য পরিষেবা একটি মৌলিক অধিকার।আমরা স্বাধীন- দেশের মধ্যে এখনও প্রতি দিন প্রকৃত কৃষককে আত্মহত্যা করতে হয়। ফসলের বীজ কেনার অর্থ নেই। ঋণের অর্থ শোধ করতে না পেরে আত্মহত্যাকে মুক্তির সহজ উপায় বলে ভেবে নিচ্ছে প্রকৃত কৃষকেরা। "কৃষক সারা জীবন চাষ করে আর সারা জীবন ধরে ঋণের সুদের অর্থ শোধ করে"- সব চাইতে দুঃখের বিষয় হল প্রকৃত কৃষকদের সামনে রেখে কিছু সুযোগ সন্ধানী মানুষ আমাদের স্বাধীন দেশের স্বাধীন সরকারের কাছ থেকে স্বাধীনভাবে ঋণের টাকা তুলে নিচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তি নেই এই স্বাধীন দেশের স্বাধীন সরকারের কাছে। সঠিক ভাবে মূল্যায়ন করা দরকার কৃষকদের আর্থসামাজিক জীবনযাত্রা নিয়ে, কৃষকদের প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক ভাবে কৃষি উন্নয়নের প্রশিক্ষণ। সঠিক কৃষককে সঠিক ভাবে চিহ্নিতকরণ প্রয়োজন, সাথে সাথে দরকার শিক্ষা। শিক্ষিত কৃষক পারে নিজের অধিকারটি বুঝে নিতে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ফসলের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে। ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবসে দাঁড়িয়ে আমাদের উচিত দেশের নাগরিকদের জন্য নূন্যতম খাদ্যের সুনিশ্চিত বন্দোবস্ত করা, যাতে কি না কোনও কৃষককে অনাহারে আত্মহত্যা করতে না হয়।বর্তমানে আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো অভিবাসন বা মাইগ্রেশন। আমরা যদি সঠিক রাজনৈতিক পদক্ষেপ না নিতে পারি বা সবকটি রাজনৈতিক দলগুলিকে অথবা দলের নেতা মন্ত্রীদের ন্যূনতম শিক্ষায় শিক্ষিত করতে না পারি যে ‘দেশের জন্যে রাজনীতি, রাজনীতির জন্যে দেশ নয়’- তা হলে মাইগ্রেশন কোনও দিন বন্ধ করা যাবে না। ভারতবর্ষের সীমানা সংলগ্ন রাজ্যগুলিতে দৃষ্টি দিলে দেখা যাচ্ছে যে কী বিপুল পরিমাণে মাইগ্রেশন চলছে সমস্ত স্বাধীন প্রশাসনের চোখের সামনে দিয়ে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের সিংহাসনটি মজবুত করার জন্য তা বিনা বাধায় মেনে নিচ্ছে।বর্তমানে রাজনৈতিক নেতাদের ন্যূনতম শিক্ষার প্রয়োজন সব থেকে বেশি। তাঁদের জানা বা অনুভব করা উচিত যে "দেশের ঊর্ধে রাজনীতি নয়, রাজনীতির ঊর্ধে দেশ"। নির্বাচন যায়, আবার ফিরে ফিরে আসে, কিন্তু যে মানুষটা একবার কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে ঢুকে পরে সে আর কোনও দিন ফিরে যায় না। দেশের প্রতি তার কতটা দায়িত্ববোধ জন্মায় সেটা বোঝার অনেক অনেক আগে দেশের নাগরিকত্ব প্রমাণের দায়িত্ব তারা পূর্ণ করে ফেলে। স্বাধীন দেশ, সেও স্বাধীন, দেশের স্বাধীন নাগরিক, তাকে কিছু বলা যাবে না। তাদের সাথে কোনও না কোনও রাজনৈতিক দল আছে যাদের একটাই স্লোগান- "তোমরা আমাদের ভোট দাও আমি তোমাদের সমস্ত কিছু করার স্বাধীনতা দেব। ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবসে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রথম উচিত রাজনৈতিক দলগুলোর বিশুদ্ধকরণের সাথে সাথে দেশের প্রতি একটা দায়িত্ববোধের কথা সর্বদা মনে করিয়ে দেওয়া।আমরা স্বাধীন - মঙ্গলে উপগ্রহ পাঠাচ্ছি। বিশ্বে আমরা উন্নত হিসাবে পরিগণিত হব। তবে ঠিক নির্বাচনের সময় আজও এক্সিট পোল বিচার করা হচ্ছে "যাদব কটা ভোট দেবে, দলিত কটা ভোট দেবে, মুসলিম কটা ভোট দেবে, ব্রাহ্মন কটা ভোট দেবে"। নিজেকে লজ্জিত মনে করি, উপগ্রহ নিয়ে কথা বলতে ইচ্ছা করে না। মনে হয় কবি কেন লিখলেন "জাতের নাম বজ্জাতি সব"! এই দেশে আজও নেতা ঠিক করা হয় দলিত দেখে, মুসলিম দেখে, হিন্দু দেখে। হায়রে মানুষ তোর তো কোনও পরিচয়ই নেই, মানুষের থেকে তো গরু ভাল, তাকেও রক্ষা করতে একদল আছে, তোর কে আছে? তুই মানুষ পরে আগে মুসলিম অথবা হিন্দু, আবার হিন্দু হলেই হবে না দলিত হতে হবে অথবা যাদব হতে হবে।৭৫ তম স্বাধীনতা দিবসে দাঁড়িয়ে আমরা নেতা নির্বাচন করি তার জাত দেখে, তার শিক্ষা দেখে নয়। আমরা উন্নত দেশ। এগোচ্ছি! বর্তমানে একটি নতুন রাজনীতির ছোঁয়া দেখা যাচ্ছে সেটা আরও বিপজ্জনক- সংখ্যালঘু আর সংখ্যাগুরু। কিছু রাজনৈতিক দল সংখ্যালঘুকে বিশেষ ভাবে পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি করছে, আবার কিছু দল সংখ্যাগুরুকে বিশেষ ভাবে পাইয়ে দেবার রাজনীতি করছে। ফলে জাতপাতের রাজনীতিটা চরম আকার ধারণ করছে। এই বিশেষ ভাবে পাইয়ে দেবার রাজনীতি ইংরেজের সময়কালেও দেখা গিয়েছে। তা হলে আমরা কোথায় স্বাধীনতা অর্জন করলাম।৭৫ তম স্বাধীনতা দিবসে দাঁড়িয়ে আমাদের ভাবা উচিত- দেশের উন্নতি তখনই সম্ভব যদি সঠিক নেতৃত্বের সন্ধান পাওয়া যায়। আমাদের সবার উচিত দেশের স্বার্থে ও নিজেদের স্বার্থে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ ভাবে রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকা। সবাই যদি চিন্তা করি রাজনীতি খারাপ, তার ফল স্বরূপ দেশের সমস্ত নাগরিকও খারাপ থাকতে বাধ্য। দেশের নাগরিকরা ছাড়া দেশের উন্নতি সম্ভব নয়। নিজেদের স্বার্থে দেশের স্বার্থে ভাল নেতার দরকার। ব্যক্তিত্ব বিনা ভাল নেতৃত্বের জন্ম হয় না। পচা পাঁকে বাস করে পঙ্কজ সর্বদা হওয়া যায় না। তাই প্রথমে উচিত পচা পাঁক সরিয়ে ভাল সরোবর তৈরি করা তাতে নিশ্চিত পদ্ম ফুটবে। তেমনি দেশের শিক্ষিত নাগরিক সমাজের উচিত রাজনৈতিক দলগুলোর বিশুদ্ধকরণ করা। নচেৎ দেশের ও দশের উন্নতি সম্ভব নয়। রাজনীতির বাইরে কিছু হয় না, মহাভারত হতে বাইবেল, কোরান, সর্বত্রই শুদ্ধ রাজনীতির ছাপ পরিষ্কার দেখা যায়। কোনও মানুষই রাজনীতির ঊর্ধে নয়, রাজনীতি দেশের ঊর্ধে নয়। দেশ রাজনীতি বিনা নয়। অতএব সব উন্নতির, সব স্বাধীনতার, সব রাজনীতির সঠিক নেতৃত্বের দরকার, সঠিক প্রজার দরকার, শিক্ষার দরকার, ভক্তির দরকার, ত্যাগের দরকার, আদর্শের দরকার, দায়িত্ববোধের দরকার, মানুষের দরকার। মানুষ চাই, মান আর হুঁস দুটি যার আছে "মানুষ" যে জানে "আমি আত্মা! আমি ভগবান! আমি অশেষ! আমি অজয়! আমি সে! আমি সে! আমি সে! "

মৃত‍্যুহীন প্রান-ক্ষুদিরাম বোস
 11 August 2021  

মৃত‍্যুহীন প্রাণ================কলমে :- সীমন্ত নন্দী================প্রথম পর্ব******************বোস" শব্দ টার মধ্যে একটা ঝংকার আছে,একটা গরিমা আছে,একটি সাহসীকতার প্রতীক চিহ্ন আছে।"বোস" বাঙালি আর পাঁচটা নামের পরে নিজ ঠিকানা চিহ্ন একটা পদবী,সেই ছেলেটার ও ছিলো।তবে গড়ানো শান ইঁটের ভীত গড়ে সাদা চামড়ার বিদেশী শাসন যেভাবে চোখ রাঙিয়ে দাপিয়ে কাটিয়ে বেড়িয়েছিল,তাতে তাদের বুকে একটু  ভয় ধরানোর জন্য "বোস" শব্দ টা যথেষ্ট ছিল।যদি নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস ইংরেজ দের চোখের চশমা টেনে খুলে নেয়,তবে ক্ষুদিরাম বোস সেই চশমার কাঁচ টা ঘুসি মেরে অনেক আগেই ভেঙে দিয়েছিলেন।ব্রিটিশ শাসনের বসার চেয়ারের পাওয়া টা অনেক আগে ভেঙে দিয়েছিলেন মেদিনীপুরের ক্ষুদে বোস।বাংলার ইতিহাসে কিছু অংশ ক্ষুদে কে পাওয়া গেলেও ভারতের ইতিহাসে বা অন্য রাজ্যে এখনো ক্ষুদে অজ্ঞাত।কষ্টকর হলেও এমন ইতিহাস তবুও বলতে ইচ্ছে করে জোর কণ্ঠে।     "নামের আকাশে ছোট্ট সে ক্ষুদে।     আকাশে দেখো তাকিয়ে স্বাধীনতার বারুদে     মুছতে না পারে ইতিহাস তুমি রইবে উচ্চপদে।      শত চেষ্টায় পারিবে না তোমাকে বিচ্ছেদে।"হয়তো মিছে ইতিহাস আর দগ্ধ রাজনীতির চাপে ক্ষুদে কিছুটা বিলীন।কিন্তু জুঁই ফুলের সুগন্ধ যতই হাত চাপা দিক মুখে সে গন্ধ বিলিয়ে যাবে।তেমনি এক সাহসী যোদ্ধা ক্ষুদিরাম বোস।আসলে সেদিনের সেই বিদ্রোহী রণমূর্তি সেই ছেলেটার, তথাকথিত কিছু নাম ধারী মানুষের পছন্দ হয় নি সে রুপ।আসলে তারা চেয়েছিল প্রিয় মূর্তি সব ভক্তের কাছে প্রিয় হয়ে থাক,তাই সেদিনের ক্ষুদের স্মরণীয় কাজ কে ঘৃণা দিয়ে উপমা দিয়েছিল এক ব্যাক্তি।আবেগে ভারতবাসী ভাসার আগে জলের তাপমাত্রা শিথিল করে দিল।কিছু বলার আগে চুপ সেদিন কিছু অনুগামী।            ১৯০৮ সালের এগারোই অগস্ট ভোর ছ’টা। মজঃফরপুর জেলে ফাঁসি হয়েছিল ক্ষুদিরাম বসুর। ক্ষুদিরাম অর্থাৎ আজকাল পাঠ্যপুস্তকে যে সন্ত্রাসবাদী বলে পরিচিত। বছর চোদ্দোর ছেলে সুশীল সেনকে প্রকাশ্যে চাবুক মারার আদেশ দেওয়া অত্যাচারী ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে যে স্বহস্তে শাস্তি দিতে গিয়ে ভুল করে মিস ও মিসেস কেনেডিকে মেরেছিল। সেই ক্ষুদিরাম অনেকের কাছেই হতভাগ্য অপরিণত যুবক বলে বিশেষ মায়ামমতার অধিকারী। বলা বাহুল্য, এঁরা স্বঘোষিত মানবতাবাদী। এঁদের কাজই হল যে কোনো ঐতিহাসিক চরিত্রের কৃতিত্ব-মহিমা-শিক্ষা এগুলিকে একপাশে ঠেলে (Too mainstream?) “নির্মোহ নিরপেক্ষ” বিশ্লেষণের নামে তার চরিত্রের অন্য দিকগুলি নিয়ে কাটাছেঁড়া করা। ক্ষুদিরাম নিয়ে সামান্য কিছু পড়াশোনার পর, এ হেন ক্রিয়াকলাপের উদ্দেশ্য খুঁজতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে, তাই আজ এই প্রসঙ্গের অবতারণা।এঁদের বক্তব্য মূলতঃ দুই ধারার:১) ক্ষুদিরাম বসু আদালতে বয়ান বদলে নিজেকে বাঁচাতে চেয়েছিল।২) ক্ষুদিরাম নেতাদের হাতে ব্যবহৃত একটি অপরিণত মনের কিশোর মাত্র।এজাতীয় আলোচনায় কিছুটা আশ্চর্যভাবেই মানবতাবাদীরা একমাত্র অভ্রান্ত তথ্যসূত্র হিসাবে খাড়া করেন একটিমাত্র বইকে।হেমচন্দ্র কানুনগোর লেখা সেই বইটির নাম “বাংলায় বিপ্লব-প্রচেষ্টা” হলেও, নামভূমিকার স্থান তার মধ্যে খুবই অল্প। এ দেশের বর্তমান অবস্থা ও সনাতন ধর্ম নিয়ে একরাশ অযৌক্তিক অভিযোগ, নেতা ও কর্মীদের প্রতি প্রভূত বিদ্বেষ, রাজনৈতিক কার্যকলাপের সমালোচনার নামে অদ্ভুত পরস্পরবিরোধিতা – এই সবই তাঁর বইটিতে অত্যন্ত দৃষ্টিকটু এবং কিয়দংশে হাস্যকরভাবে স্থান পেয়েছে।পাঠক, ভুল বুঝবেন না। হেম কানুনগো মহাশয়ের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে আমার কাটাছেঁড়া করবার প্রবৃত্তি নেই; তাঁর মতামত তাঁর ব্যক্তিগত। কিন্তু ভগ্নোৎসাহ ও বীতশ্রদ্ধ এক ব্যক্তির লেখা এই বইটি প্রামাণ্য ইতিহাস প্রণয়নে কীভাবে একমাত্র যুক্তি হয়ে উঠতে পারে, এ আমার বোধের অগম্য। আর দশটা রেফারেন্স-বই যখন অধিকতর তথ্যে সহমত হয়, তখন এ হেন “টেক্সট” নির্বাচনের অভিসন্ধি নিয়ে কিছু অপ্রীতিকর প্রশ্ন উঠে আসে বই কি !মূল অভিযোগ তথা রিইনটারপ্রিটেশনের প্রসঙ্গে আসি। “মানবতাবাদী”রা বলে থাকেন ধরা পড়ার পর ক্ষুদিরাম পরস্পরবিরোধী বয়ান দিয়েছিল, এবং তার এই চারিত্রিক বিচ্যুতি বিশেষ গবেষণার দাবি রাখে।ঘটনাপরম্পরা এইরূপ:১৯০৭ সালে যুগান্তর মামলার বিচারক কিংসফোর্ডের কঠোর দমনমূলক রায়দানের জন্য বিক্ষোভের বারুদ জমেই ছিল, আদালত চত্বরে বালক সুশীল সেনকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করার আদেশ দেওয়ায় তাতে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ-সংযোজন ঘটে। এরপর বিপ্লবীদের আদালতে কিংসফোর্ডের মৃত্যুদণ্ড ঘোষিত হয়, বই-বোমার আক্রমণ ব্যর্থ হওয়ার পর ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকী সেই মৃত্যুপরোয়ানা নিয়ে কিংসফোর্ডের নতুন চাকুরীক্ষেত্র মজঃফরপুরে উপস্থিত হয়। ৩০শে এপ্রিল ১৯০৮ – রাত সাড়ে আটটায় বোমা ছোঁড়ার পরে অকুস্থল থেকে দুই বিপ্লবী দুদিকে আলাদা হয়ে যাওয়ার পর পয়লা মে ওয়াইনি স্টেশনে দুই কনস্টেবলের হাতে ক্ষুদিরাম ধরা পড়ে। তাকে প্রহরার মধ্যে নিয়ে আসা হয় মজঃফরপুর স্টেশন হয়ে ইওরোপীয়ান ক্লাবে। সে সম্পর্কে ইংরেজ সরকারের পক্ষপাতী স্টেটসম্যান (2.2.1908) জানাচ্ছে –“HE CAME OUT OF A FIRST CLASS COMPARTMENT AND WALKED ALL THE WAY TO PHAETON, KEPT FOR HIM OUTSIDE, LIKE A CHEERFUL BOY WHO KNOWS NO ANXIETY…ON TAKING HIS SEAT THE BOY LOUDLY CRIED BANDEMATARAM.”একটু দেখে নিই, “অপরিণত মানসিকতার” ছেলেটি এরপর এমন কী স্ববিরোধিতা করেছিল, যেকারণে  তাকে পরীক্ষামূলক সাহিত্যের বিষয়বস্তু করা (পড়ুন তার “বিচ্যুতি”কে হাইলাইট করা) উচিত।১) ম্যাজিস্ট্রেট উডম্যানের কাছে ২রা মে ক্ষুদিরামের প্রথম বয়ান, বোমা সে-ই ছুঁড়েছিল। (৭ই মে এটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়) ততক্ষণে সে জেনে গেছে –“ম্যাজিস্ট্রেটকে মারতে গিয়ে মেরেছি নির্দোষী!”২) ২৩শে মে আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট বার্থাউডের কাছে ক্ষুদিরামের দ্বিতীয় বয়ান, বোমা ছুঁড়েছিল দীনেশ রায়। (প্রফুল্ল চাকীকে যে নামে সে চিনত)এই দুই বক্তব্যের ফাঁকে নবইতিহাসপ্রণেতারা মানবিকতার স্বার্থে তুলে নিয়ে আসেন ভীতু ক্ষুদিরামকে।নব-ঐতিহাসিকরা যেটা মিস্ করে যান (স্বেচ্ছাচক্ষুবন্ধও হতে পারেন) তা হল পার্থক্য তো শুধু দুটি বয়ানের নয়, তাদের মধ্যে সময়টারও। এই সময়টার মধ্যে ক্ষুদিরাম জেনে গেছে ইতিমধ্যে ইনস্পেক্টর নন্দলাল ব্যানার্জীর বিশ্বাসঘাতকতায় মোকামা স্টেশনে শহীদ হয়েছে প্রফুল্ল চাকী।আদালতে পরবর্তী সওয়ালে প্রমাণ হবে, বোমা নিক্ষেপের মূল ভূমিকা তারই। প্রফুল্লর মৃত্যুসংবাদ পেয়েও ক্ষুদিরাম প্রথম বানানো বয়ানটা কেন পুনরাবৃত্তি করবে, প্রফুল্লকে তার প্রাপ্য কৃতিত্ব দেবে না, তার কোনো সঙ্গত কারণ দেখাতে পারেন?পরের যুক্তিটা উঠে আসে, তার উচ্চতর আদালতে প্রাণদণ্ড রদের আপীল করার কথায়। পরপর দুটি ঘটনার সাহায্যে প্রমাণ করার চেষ্টা হয়, বিপ্লব নামক পুরো প্রয়াসটাকেই সে হঠকারী মনে করতে শুরু করেছিল। অথবা হয়তো ─ এ অভিযোগ আরও সহজ ─ ধরা পড়ার পর একটা সাধারণ ভীতু ছেলের চিত্তবৈকল্য?হে পাঠক, অবধান করুন।কোনোরকম প্ররোচনা ছাড়া কেবল “ভয়”-এর বশে তার উচ্চ আদালতে আপীল করা কতদূর সঙ্গত? ক্ষুদিরাম মেদিনীপুরে আগেও আদালতে উঠেছে, তার আচরণে ঘাবড়ে যাওয়ার হদিশ মেলেনি। আর ঘটনার ধারাবাহিকতা বলে যদি কিছু থেকে থাকে, এই ভয়ঙ্কর দুঃসাহসিক হত্যাপ্রচেষ্টা, ধরা পড়ে সঙ্গীকে বাঁচিয়ে নিজের ঘাড়ে দোষ টেনে নেওয়া অকপট স্বীকারোক্তি, কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে শেষ ইচ্ছে হিসাবে বোমার চেহারা বর্ণনা করতে চাওয়ার নির্লিপ্ত ঔদ্ধত্য, এবং শেষ পর্যন্ত ফাঁসির মঞ্চের দিকে সেপাইদের টেনে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া – এই সমস্ত কাজের ফাঁকে প্রাণভয়ে দণ্ড রদ করার আবেদনটা কি বিসদৃশ লাগছে না একটুও ? বা “ভয়” পেয়ে আদালতে মিথ্যাভাষণ ?বিভিন্ন বই ও নথি থেকে যে “গল্প”টা জানতে পারি, তা মোটামুটি এইরকম: ক্ষুদিরামের তরফের উকিল কালিদাস বসু তাকে নানাভাবে উপরোধ করেন, আপীলের জন্য দলিলে সই করতে। ক্ষুদিরাম অসম্মত হয়। তখন উকিলরা প্রধানত একখানা যুক্তি এবং আরেকটা সেন্টিমেন্ট তার কাছে পেশ করেন। প্রথমতঃ, তাঁরা আশা দেখান, কারাদণ্ড ভোগ করাকালীন যদি কোনোভাবে ভারতে বিপ্লবী আন্দোলন সাফল্যলাভ করে, তবে স্বাধীন ভারতের নাগরিক হওয়ার স্বপ্নটা তার এ জন্মে সফল হয়ে যেতেই পারে! অথবা কোনোভাবে যদি জেলের বাইরে আসতে পারে, তা হলে ভবিষ্যতে আরও দেশের কাজ করতে পারার সম্ভাবনা আছে!তাঁরা জানতেন, ছেলেটির দুর্বলতা কোথায়। আপীলে কোনো কাজ হবে না, ক্ষুদিরাম এই ধারণার কথা জানাতেই তার জন্য বিনামূল্যে প্রাণপাত করে লড়ে-যাওয়া উকিল তার কাছে পিতৃতুল্যের দাবি হাজির করেন। আজ্ঞে হ্যাঁ, “তোমার বাবা থাকলে এভাবে মুখের ওপর না বলতে পারতে” এই মন্ত্রেই সেই চালচুলোহীন, তিনমুঠো খুদের বিনিময়ে কেনা ছেলেটা বশ মানে। অযাচিত ভালোবাসার উপরোধে পড়ে সইটা করেই দেয় সে।কাজেই “ভয়” সে কোনদিনই পায়নি। যারা বিচ্ছিন্নভাবে এই দুটি ঘটনাকে খাড়া করে ক্ষুদিরামকে “ভীতু” প্রমাণ করতে চান, মানবতাবাদের সৌম্যদর্শন মুখোশের নীচে তাঁদের ভণ্ডামিটা বেশ স্পষ্ট চোখেই ধরা পড়ে।দ্বিতীয় পর্ব**************** এবার দ্বিতীয় প্রসঙ্গে আসা যাক। আমরা বলি, বাড় খেয়ে ক্ষুদিরাম। (“আমরা বলি” বললাম, কারণ যাঁরা বলেন তাঁদের আমরা বাঙালি জাতি দিয়েছি প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী বা বিদগ্ধ সাহিত্যিকের মর্যাদা)। ব্যবহার করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা কেউ বোধ করে না, এবং এ হেন লোভনীয় প্রবাদের অর্থ জানেন না বা কোনোদিন শোনেননি এমন বাঙালি কমই আছে। অদৃশ্য সুযোগসন্ধানী পক্ষের অঙ্গুলিহেলনে, ভ্রান্ত আদর্শে পরিচালিত ও ব্যবহৃত হওয়ার উদাহরণ হিসেবেই ক্ষুদিকে মনে রেখেছি আমরা। এ-ও সেই “জনবিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসবাদী” ন্যারেটিভেরই একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ। যেন উচ্চতর বুদ্ধিজীবী মহলের গভীরতর “মানবিক” চিন্তাধারাই trickle down hypothesis মেনে এই উপমায় পরিণত হয়েছে।চলুন দেখে নিই, ক্ষুদিরামকে যারা যারা বাড় খাইয়েছিল, তাদের পরিচিতি এবং ক্ষুদিরামের দ্বারা তারা কতটা লাভবান হয়েছিল।১) মেদিনীপুরের সত্যেন্দ্রনাথ বসু। রাজনারায়ণ বসুর ভ্রাতুষ্পুত্র, সম্পর্কে শ্রীঅরবিন্দের মামা, এবং ক্ষুদিরামের বিপ্লব-গুরু। গুরু-অর্থে মগজধোলাই করে সেনাবাহিনীতে ভর্তি করা কোনো এনটিটি নন, খাঁটি ইস্পাতকে তিনি অস্ত্র হওয়ার দিশা দেখিয়েছিলেন মাত্র। ইতিহাস বলছে, নিশ্চিত মৃত্যুদণ্ড জেনেও এই মানুষটি ক্ষুদিরামের ফাঁসির মাসেই আলিপুর জেলের মধ্যে নরেন গোঁসাই হত্যায় স্বেচ্ছায় ও সুপরিকল্পিত ভাবে নিজেকে জড়ান, এবং চার মাসের মধ্যেই নিজেও ফাঁসি যান। এই অতিসংক্ষিপ্ত অথচ পূর্বনির্ধারিত সময়ে ক্ষুদিরামকে ব্যবহার করে সত্যেনের ব্যক্তিগত মুনাফার তথ্য আমার অজানা; কেউ সরবরাহ করলে কৃতজ্ঞ থাকব।২) বারীন ঘোষ। বিপ্লবীর আদর্শচ্যুতির প্রথম জাজ্বল্যমান নিদর্শন তিনি। ধরা পড়ার পর অযথাই স্বীকারোক্তি করেছিলেন। অসংখ্য কর্মীর প্রতি পরোয়া না করা বারীন্দ্রকুমারের একের পর এক মারাত্মক ভ্রান্তিগুলির জন্য অগ্নিমূল্য ধরে দিতে হয়েছিল বাংলার বিপ্লবী আন্দোলনকে। কিন্তু ক্ষুদিরামকে ওই অভিযানে পাঠানোর প্রধান এবং প্রকাশ্য উদ্দেশ্য ছাড়া ওই মুহূর্তে তাঁর আর কোনও ব্যক্তিগত লাভের আশা ছিল কি? স্বীকারোক্তিতে কিন্তু তিনি সজ্ঞানে নিজেরও ফাঁসি অথবা দ্বীপান্তর নিশ্চিত করিয়ে নিয়েছিলেন, অর্থাৎ ১৯০৮-এর প্রেক্ষাপটে অন্ততঃ তিনি চূড়ান্ত শাস্তি থেকে গা বাঁচানোর কোনো চেষ্টাই করেননি!৩) মামলায় অংশগ্রহণকারী আইনজীবীরা। ঘটনার পরেও তার রেশ থাকে ─ লাশের রাজনীতি শব্দটা আমাদের সকলেরই পরিচিত; তাই এঁদেরও টেনে আনতে হল। তবে নিজে হাতে মুক্তির পথরোধ করার পরও সেই ছেলেটার পাশে সেদিন যে আইনজ্ঞরা দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁরা কিন্তু কাঞ্চনমূল্যের প্রত্যাশা করেননি। বিনা স্বার্থে বিনা পারিশ্রমিকে রাজরোষের সামনে অকুতোভয় দাঁড়িয়েছিলেন তাঁরা। আর ক্ষুদিরামের শেষযাত্রার বর্ণনা তো অতি সহজলভ্য। সেখানে জানা যায় যাঁরা ক্ষুদিরামের শবদেহ হিন্দুমতে দাহ করেছিলেন বা তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, (সেই অধুনা-অখ্যাত ব্যক্তিদের একজন একটি মর্মস্পর্শী আখ্যানও লিখে গেছেন, কিমাশ্চর্যম্) তাঁদের সঙ্গে ছেলেটির রক্তের সম্পর্ক বা আর্থিক লেনদেনের হিসাব কোনোটাই ছিল না। বাঁচবার প্রত্যাশা না করেই ক্ষুদিরাম একের-পর-এক বেপরোয়া কাজ করেছিল, তা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানোর চেষ্টা থেকে বিরত হননি তাঁরা, এমনকি মরবার পরও চিতা থেকে উড়ে আসা জ্বলন্ত ছাইটুকুর দহন সসম্মানে গ্রহণ করেছেন।পারিপার্শ্বিক প্রমাণাদি থেকে পাঠক বাড় খাওয়ানো আর কোনো পক্ষকে খুঁজে বার করতে পারলে, অনুগ্রহ করে জানাবেন।বাড় খেয়ে ক্ষুদিরাম প্রসঙ্গে আরেকটি মূল্যবান ঐতিহাসিক নথি রয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল“NOWHERE IN THE DEFENCE DURING THE TRIAL WAS IT STATED THAT THE ACCUSED WAS A TOOL IN THE HANDS OF OTHERS. IN HIS CONFESSION HE CLAIMED THAT THE INTENTION TO COMMIT THE CRIME WAS HIS OWN, THOUGH IT HAD BEEN AROUSED BY THE SPEECHES AND WRITINGS OF OTHERS AND THAT THE COMMISSION OF THE CRIME WAS CARRIED OUT BY HIM AND DINESH AT THEIR OWN INITIATIVE.”হ্যাঁ, ক্ষুদিরামের পক্ষের আইনজীবীরা যেনতেনপ্রকারেণ তাকে বাঁচাবার চেষ্টা করেছিলেন। যে কোনো মূল্যে, এমনকি মানসিক অসুস্থতার অজুহাতেও ছেলেটির জীবনরক্ষাই তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল; এবং কীভাবে বলে বুঝিয়ে এবং চাপ দিয়ে তাঁরা ক্ষুদিরামের থেকে আবেদনে স্বাক্ষর আদায় করেছিলেন সেটা আগের পর্বে লিখেছি। কিন্তু আদালত জানাচ্ছে, ক্ষুদিরামের দৃপ্ত স্বীকারোক্তির জন্যই সে অ্যাপীল নাকচ হয়ে যায়; বিচারক জানান “that the accused was a mere tool in the hands of others in committing the crime” এটি একেবারেই যুক্তিপূর্ণ নয়।ব্যাপারটা আসলে হয়তো কিছু প্রিয় নায়কের গুরুত্ব খর্ব করার ইচ্ছে। বাঙালীর চেতনাগত আত্মঘাতী প্রচেষ্টাগুলি তো চিরকালই “সগৌরবে চলিতেছে”! ক্ষুদিরামের জাতি পরিণত হয়েছে অশিক্ষার গর্বে উদ্বাহু নৃত্য করা জনতায়, এবং যা আরও দুঃখজনক, সচেতন ভাবে ইতিহাসকে ধ্বংস করা মেকি পণ্ডিতে। তৃতীয় পর্ব*************** দণ্ডাদেশ শুনে সেদিন আঠেরোর কিশোর হাসিমুখে দাঁড়িয়েছিল কাঠগড়ায়।জজসাহেব শুধোলেন, আদেশের মানে বুঝেছ?হাসিমুখে ছেলেটা বললে, আমি যে গীতা পড়েছি!(“বেদাবিনাশিনং নিত্যং য এনমজমব্যয়ম। কথং স পুরুষঃ পার্থ কং ঘাতয়তি হন্তি কম্।।” ২/২১)ক্ষুদিরামকে যারা ভণ্ড নেতৃত্বের হাতের পুতুল, হঠকারী যুবক বলে প্রতিপন্ন করেন, তাঁদের কাছে প্রশ্ন – আদর্শ ছিল না কি ? শুধুই গোঁয়ার্তুমি ? বোধ ছিল না ক্ষুদিরামের ?অগ্নিযুগের উন্মেষকালে দেশ স্বাধীন করার বাসনা নিয়ে যারা আগুনে ঝাঁপ দিয়েছিল, তাদের লক্ষ্য-আনুগত্য সবকিছু ছিল দেশের প্রতি একনিষ্ঠ। কর্মপদ্ধতি ও আদর্শ ছিল ভারতবর্ষের দর্শনে প্রোথিত। তাই পরবর্তী কোনো ভিন্নধারার ভুঁইফোড় আন্দোলনের ব্যর্থতাকে জাস্টিফাই করার জন্য ক্ষুদিরামকে ছোট করা ঠিক প্রবল শীতের প্রাণদায়ী আগুন আর সিগারেটের ডগার তুলনার মতই হাস্যকর। মিথ্যে স্বপ্নের মায়াজালে তরুণদের বলি করার দেশজ-শিকড়হীন আন্দোলনের সঙ্গে ক্ষুদিরামকে গুলিয়ে ফেলা হয় (নাকি ইচ্ছাকৃত/পরিকল্পিত ভাবে গুলিয়ে দেওয়া হয় ?), তাকে টেনে নামিয়ে বসানো হয় ব্যর্থ আবেগের ধ্বংসাত্মক কার্যাবলীর সঙ্গে একাসনে। তুলনামূলক চর্চা করার ক্ষেত্র এটা নয়, মৌলিক পার্থক্যগুলি চক্ষুষ্মান সুধীজনমাত্রই বুঝতে পারবেন। প্রশ্ন করবেন, সাহিত্যের ছলে বা মনস্তত্ত্ব অবলোকনের নামে মনগড়া গল্প রটানো অথবা স্থূলরুচির রসিকতার পিছনে উদ্দেশ্যটা কী ?ক্ষুদিরাম ভয় পায়নি, ক্ষুদিরাম ব্যবহৃত হয়নি। তার স্বপ্নে যে কোথাও খাদ ছিল না তার সাক্ষী অবিকৃত ইতিহাস। তার উদ্দেশ্যে যে কোথাও দীনতা ছিল না, কর্তব্যে কোথাও হীনতা ছিল না, তার প্রমাণ শাসিত ও শাসক দুতরফের লিপিবদ্ধ নথি। এ প্রমিথিউস পবিত্র আগুন আনতে চেয়েছিল বিপ্লবের জন্য। সজ্ঞানে। স্বেচ্ছায়। নিজের বুকের পাঁজরে সেই বজ্রানল বহন করে এনেছিল কিশোর দধীচি।ইচ্ছে হলে একে হিরো-ওয়রশিপ বলতেই পারেন। বীরপূজারী হওয়ার মধ্যে আমি কোনও অসম্মান দেখি না। তবে নয়কে হয় করে নয়, বিপক্ষের কথাগুলি যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেই সিদ্ধান্তে আসছি। Deify করতে চাই না, শুধু vilify করার অক্লান্ত প্রচার দেখে কয়েকটা সত্যি কথাই বলতে চাইছি। ক্ষুদিরাম কোনও ভিক্টিম নয়, ভাগ্যহত পরাজিত নায়কও নয়। সে সমবেদনা নয়, সম্ভ্রমের দাবিদার।চতুর্থ পর্ব*****************ফাঁসির মঞ্চে শেষ কথা কী বলেছিলেন শহিদ ক্ষুদিরাম, কী ছিল তাঁর শেষ ইচ্ছা ?১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট, বয়স হয়েছিলো ১৮ বছর ৭ মাস ১১ দিন। ফাঁসি হয়েছিল শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর। বাংলা তথা ভারত হারিয়েছিল এক আদন্ত নির্ভীক সন্তানকে। স্বাধীনতার স্বপ্নে যিনি মৃত‍্যুভয়কেও বশ করেছিলেন। এমনকী, ফাঁসির মঞ্চে তাঁর শেষ কথা চমকে দিয়েছিল উপস্থিত সকলকে।প্রফুল্ল চাকি আত্যহত‍্যা করলেও ক্ষুদিরাম ধরা পড়েছিলেন ব্রিটিশদের হাতে। বিচারে তাঁর ফাঁসির রায় দিয়েছিলেন ব্রিটিশ বিচারক মি. কর্নডফ। রায় ঘোষণার পর ক্ষুদিরামের মুখে ছিল হাসি। অল্প বয়সী ক্ষুদিরামকে বিচারক কর্নডফ প্রশ্ন করতে বাধ্য হয়েছিলেন, ফাঁসিতে যে মরতে হবে সেটা সে বুঝেছে তো ?স্বাধীনতার আকাঙ্খায় এমনই নির্ভীক ছিলেন মেদিনীপুরের এই বিস্ময় যুবক। রায় ঘোষণার পর জীবনের শেষ কযেকটা দিনে কারাগারে বসে মাৎসিনি, গ্যারিবল্ডি ও রবীন্দ্রনাথের লেখা পড়তে চেয়েছিলেন। ১০ আগস্ট আইনজীবী সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তীকে ক্ষুদিরাম বলেছিলেন, 'রাজপুত নারীরা যেমন নির্ভয়ে আগুনে ঝাঁপ দিয়া জওহরব্রত পালন করিত, আমিও তেমন নির্ভয়ে দেশের জন্য প্রাণ দিব। আগামীকাল আমি ফাঁসির আগে চতুর্ভুজার প্রসাদ খাইয়া বধ্যভূমিতে যাইতে চাই।'আর ফাঁসির আগে ক্ষুদিরামের শেষ ইচ্ছা কী ছিল জানেন ? সেইসময়ও দেশের জন্য সশস্ত্র সংগ্রামকে এগিয়ে যাওয়ারই চেষ্টা করে গিয়েছেন তিনি। বলেছিলেন, তিনি বোমা বানাতে জানেন। ব্রিটিশদের অনুমতি পেলে সেই বিদ্যা ভারতের অন্যান্য যুবকদের শিখিয়ে যেতে ইচ্ছুক।তবে ফাঁসির মঞ্চে এসেও যে প্রশান্তি ছিল তাঁর মনে, তা সবচেয়ে বিস্ময়কর। ১৯০৮ সালের ১১ অগাস্ট জেলের ভিতরে গড়া হয়েছিল ১৫ ফুট উঁচু এক ফাঁসির মঞ্চ। দুই দিকে ছিল দুটি খুঁটি। তার উপর একটি মোটা লোহার রড ছিল আড়াআড়িভাবে লাগানো। সেই রডের মাঝখানে মোটা একগাছি দড়ি বাঁধা ছিল। তার শেষ প্রান্তে ছিল মরণ-ফাঁস।ক্ষুদিরামকে সেই মঞ্চে তাঁকে নিয়ে এসেছিলেন ব্রিটিশ সরকারের চার পুলিশ। ক্ষুদিরাম ছিলেন তাঁদের সামনে। ফাঁসির আগে উপস্থিত আইনজীবীদের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলেছিলেন তিনি। তারপর পিছমোড়া করে বাঁধা হয় দুইহাত। গলায় ফাঁসির দড়ি পরানো মাত্র জল্লাদকে শহীদ ক্ষুদিরাম প্রশ্ন করেছিলেন 'ফাঁসির দড়িতে মোম দেওয়া হয় কেন ?' এটাই ছিল বীর শহিদের জীবনের শেষ কথা। জল্লাদ বিস্ময়ে কিছু বলতে পারেননি। বিস্ময়ে হতবাক হয়েগিয়েছিলেন ব্রিটিশ জেলার থেকে উপস্থিত সকলে। ফাঁসির আগে কী করে কারোর মনে এই প্রশ্ন আসতে পারে ?পলকের আড়ালে সেদিন ছোট্ট কিশোর জীবন দিয়েছিলেন।মহাত্মা গান্ধী ক্ষুদিরামকে সর্মথন করেন নি এবং উল্টে ইংরেজ দের বিরুদ্ধে হিংসাকে নিন্দা করেন।এবং ওই ইংরেজ মহিলার মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করেন। তবুও মৃত্যুর ১১৩ বছর পরেও স্বাধীন ভারতের আপামর মানুষের মনে তিনি আজও অমর হয়ে বেঁচে থাকবেন।ALL COPYRIGHT STRICTLY  ©ALL RIGHTS RESERVED BY SIMANTA NANDI  ®

মনোজ পান্ডে-কার্গিল যুদ্ধের একজন বীর সেনানী
 26 July 2021  

একটা প্রবাদ রয়েছে, কলেজ জীবনে ডায়েরিতে একটা অন্তত কবিতা লেখেনি এরকম বাঙালি যুবক খুঁজে পাওয়া মুশকিল৷ আসলে ওই সময়টা ওরকমই, প্রাণবন্ত, চাপমুক্ত, পাহাড়ি নদীর মতো খরস্রোতা। সৃষ্টির আদর্শ সময়ই বোধহয় ওটা। কিন্তু ধরুন আপনার ডান পাশে গুলির শব্দ, বাঁ-পাশে গ্রেনেড ফাটছে। এরকম মহাপ্রলয়ের মাঝে স্থিতধী শিবের মতো বসে থেকে কবিতা লিখতে পারতেন কি?বাটালিক সেক্টরে তখন গ্রীষ্মকাল, অবশ্য লাদাখের এই অঞ্চলটাতে কী শীত আর কী গ্রীষ্ম! তাপমাত্রা সেই জমাট বেঁধেই আছে। বরফের উপর বসে রয়েছে এক বছর ২৪ এর যুবক৷ পরনে জলপাই রঙা পোশাক, কাঁধে বন্দুক, কিছুটা দূর থেকে গুলি গ্রেনেডের শব্দ এসে ধাক্কা দিচ্ছে কানে। ছেলেটির হাতে একটা ডায়েরি। খসখস করে কিছু একটা লিখছে সে, নিজের মায়ের উদ্দেশ্যে একটা ছোট কবিতা। আর তার নীচেই দু'টো লাইন...'If death strikes before I prove my blood, I swear I will kill death.''দেশের হয়ে লড়াইয়ে নিজেকে প্রমাণ করার আগে মৃত্যু এলে, আমি মৃত্যুকে মেরে ফেলব।'এমন লাইন যার কলম থেকে বেরোতে পারে সে ছেলে প্রেমিক না হয়ে যায় কোথায়? এ ছেলে প্রেমিক, আর এর প্রেমিকা ভারত...১৯৯৫, বারানসি SSB-র ইন্টারভিউতে বসে রয়েছে এক ১৯ বছরের বাচ্চা ছেলে। সামনে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বড় অফিসাররা। অফিসারদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন ছুটে এল,- সেনাবাহিনী কেন জয়েন করতে চাও?- পরমবীর চক্র পাওয়ার জন্য স্যার।- পরমবীর চক্র কে কি খেলনা মনে করো?- No sir, I will surely win it by my courage...প্রশ্নকর্তা অফিসাররা বুঝেছিলেন এ জ্বলন্ত আগুন। NDA পাশ করে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন মনোজ, মনোজ পান্ডে। ১৯৯৯, কার্গিলে যুদ্ধ শুরু হয়েছে সীমান্তে। বাটালিক সেক্টরে ফাঁকা জুবার-টপ পোস্ট চুপিসারে দখল করে নিয়েছে পাকসেনা-জঙ্গির মিলিত শক্তি। গুরুত্বপূর্ণ এই পয়েন্টা পাকসেনার কাছ থেকে উদ্ধারের দায়িত্ব পড়ে ১/১১ গোর্খা রাইফেলসের উপর। জুলাই মাসের ১ তারিখ, মনোজ পান্ডের নেতৃত্বে জুবার টপের দিকে এগোতে থাকে গোর্খা রাইফেলস। কিন্তু সমস্যা হল পাক সেনা উঁচুতে পাথরের বাঙ্কারের আড়ালে, আর ভারতীয় সেনাবাহিনী নীচ থেকে উপরে ওঠার চেষ্টা করছে। ফলে পাক-সেনার গুলি ভারতীয় সেনাদের খুঁজে পেলেও উল্টো প্রায় হচ্ছে না! কিন্তু তাতে কী? এরকম অসম্ভব লক্ষ্য আর কঠিন শত্রুর উপর নেমে আসা ভয়ঙ্কর মৃত্যুর নাম-ই তো মনোজ পান্ডের ১/১১ গোর্খা রাইফেলস।এর আগে, অপারেশন বিজয়ে মৃত্যুকে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছে ক্যাপ্টেন মনোজের টিম। মনোজ পান্ডে সম্পর্কে ততদিনে একটা প্রবাদ প্রচলিত হয়ে গেছে সেনাবাহিনীতে,' IF not Manoj, then who? '২/৩ জুলাই, ১৯৯৯, রাত। উপর থেকে গুলি বৃষ্টি চলছে। খালুবারের দিকে একটু করে এগোচ্ছে মনোজ অ্যান্ড টিম। চাঁদের আলো শত্রুর সামনে উন্মুক্ত করে দিতে পারে তাদের। তাই চাঁদ মেঘে ঢাকা পড়লে এগোনো, আর চাঁদ বাইরে বেরিয়ে এলেই পাথরের আড়ালে চলে যাওয়া। অনেকটা উঠে এসেছিলেন মনোজরা। তবে শেষ রক্ষা হল না। পাক সেনার চোখে ধরা পড়ল ১/১১ গোর্খা রাইফেলসের জওয়ানদের গতিবিধি। শুরু হল গুলি, গ্রেনেড বর্ষণ। পাল্টা শুরু করলেন মনোজরাও৷ উপরে থাকা তিনটে শত্রুবাঙ্কারের প্রথমটা ধ্বংস করা গেল। টিমের একেবারে সামনে থাকা মনোজের ঘাড়ে ও পায়ে গুলি স্পর্শ করেছে ততক্ষণে। কিন্তু যে ছেলেটা পরমবীর চক্র পেতে আর্মিতে এসেছে ১৯ বছরে, তাকে কি আর এত অল্প আঘাত থামাতে পারে? বরং মনোজ তখন আহত বাঘ, পাক সেনার পরের বাঙ্কারটাও গুড়িয়ে দিলেন। এবার শুরু হল মনোজদের সঙ্গে পাক সেনার হাতাহাতি লড়াই৷মাথা থেকে হেলমেট ভিজিয়ে রক্ত ঝরছে। মাথায় মেশিনগানের নল দিয়ে বারবার আঘাত করেছে পাকসেনা। কিন্তু ওই যে ছেলেটি লিখে এসেছিল,'If death strikes before I prove my blood, I swear I will kill death.'রক্তের প্রমাণ দেওয়ার আগে মৃত্যু এলে সেই মৃত্যুকেও মেরে ফেলবে সে। অতএব যম-ও কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে মনোজরূপী শিবের বিধ্বংসী তাণ্ডব নৃত্য দেখছে চুপচাপ। তার সাহস নেই মনোজের সামনে আসার...খালুবারে স্বপ্নকে আলিঙ্গন করেছিলেন মনোজ পান্ডে। কয়েক মাস পর রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পুত্রের মরণোত্তর পরমবীর চক্র নিয়েছিলেন মনোজ পান্ডের বাবা। যেখানে লেখা হয়েছিল, 'গুলি লাগার পরও একা হাতে চারজন শত্রু সৈন্যকে মেরে জুবার টপে ভারতের জাতীয় পতাকা উড়িয়েছিলেন লেফটেন্যান্ট মনোজ পান্ডে। না শত্রুর গুলি, না মেশিনগানের খোঁচা, কিছুই থাকে থামাতে পারেনি খালুবার শত্রুমুক্ত করা থেকে...'মনোজ পান্ডে, বিক্রম বাতরা, কণাদ ভট্টাচার্য, এরকম শতশত শহীদের রক্তে রাঙানো আজকের কার্গিল বিজয় দিবস৷ উৎসব করুন ভারতবাসী। আপনার আমার বাড়ি সুরক্ষিত কারণ সীমান্তে এখনও মনোজ পান্ডে, কণাদ ভট্টাচার্য, বিক্রম বাতরা-রা দাঁড়িয়ে আছে...

ফাইল রহস‍্য
 20 January 2021  

(নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অন্তর্ধানের তত্বকে উড়িয়ে দেশের শীর্ষ এক স্তর থেকে দিনের পর দিন চেষ্টা হয়েছে তাঁর মৃত‍্যু প্রমাণের। বিমান দুর্ঘটনা, চিতাভস্ম......এমন অনেক কিছুই খাড়া করার চেষ্টা চলেছে। যে ক'টি গোপন ফাইল এতদিন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে তেমন গোপন কিছু নেই। তা সত্বেও বিভিন্ন চিঠি চালাচালি এবং হাতে আসা তথ‍্য প্রমাণ করে, নেতাজি বেঁচে ছিলেন বিমান দুর্ঘটনার পরেও। ঝুলির মুখ ফাঁকা হচ্ছে........,বেড়াল বেরিয়ে পড়লে অনেকের সুনামে দাগ আসবে না তো ?)ঠিক তিন বছর আগের কথা প্রায় ৭৫ বছরের পুরনো আবেগ ভারতবাসীকে স্পর্শ করেছিলো। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কিত যাবতীয় গোপন ফাইল প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই মতো এক বছর আগে ফাইল প্রকাশের সূচনা করেছিলেন তিনি। পাবলিক ডোমেনে অর্থাৎ জাতীয় মহাফেজখানার ওয়েবসাইটে বিশ্বময় ছড়িয়ে গেলো প্রথম পর্যায়ের বেশকিছু নেতাজি-নথি। গনমাধ‍্যম সক্রিয় হলেও সেদিন জনমানস উত্তাল হলো না। কারন সঠিক মূল‍্যায়নের অভাব। বেশ কিছু জানা, অল্পজ্ঞাত তথ‍্য প্রথম দিককার ফাইলগুলোতে প্রকাশিত হয়। অবশ‍্য তার কয়েকমাস আগে সেপ্টেম্বর মাসে রাজ‍্যের মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা ব‍্যানার্জী নেতাজি সংক্রান্ত ৬৪ টি ঝাড়াই-বাছাই করা ফাইল 'কলকাতা পুলিশ' মিউজিয়ামে প্রকাশ করেছিলেন। সে ক্ষেত্রেও অতি সক্রিয় কোনো  কোনও সংবাদমাধ‍্যম গভীরে প্রবেশ না করে স্রেফ 'অশ্বডিম্ব প্রসব' আখ‍্যা দিয়ে বিষয়ান্তরে যেতে দ্বিধা করেনি।এ পর্যন্ত কেন্দ্র মোট ৩০৩ টি ফাইল প্রকাশ করেছে। এখনো গোপনীয় বা অতি গোপনীয়  বহু ফাইল কিন্তু প্রকাশের আলো দেখেনি। রাজ‍্য ও কেন্দ্র প্রকাশিত নেতাজি ফাইলগুলোর মধ‍্যে প্রত‍্যাশামতোই নানবিকৃতকরনের পাশাপাশি পৃষ্ঠা সংখ‍্যার এদিক-ওদিক ও পাতা উধাও এর স্পষ্ট প্রমান ধরা পড়েছে। কার আমলে, কে, কেন--এইসব প্রশ্নের উত্তর লিপিবদ্ধকরন হয়নি। ইতিহাস রক্ষার প্রতি হয়েছে চরম অবিচার যা অন‍্য কোনো  জাতীয় নেতার ক্ষেত্রে ঘটেনি।*(নেতাজি কোনও মানচরিত্র ছিলেন না। তিনি আসলে একটি একক অস্তিত্ব)*গত তিন বছরে কেন্দ্র প্রকাশিত ফাইলগুলির হাজার হাজার পৃষ্ঠার নেপথ‍্যে রয়ে গিয়েছে অজস্র চাঞ্চল‍্যকর তথ‍্য ও তথ‍্যসূত্র--যা শুধু নেতাজীর জীবনগাথাকে আরও উজ্জ্বল করেছে তাই নয়, আজাদ হিন্দ আন্দোলনসহ ভারতের মুক্তি সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস নতুন করে লেখার দাবী রাখে। ১৯৫৪ সালে রাজ‍্য ও কেন্দ্র প্রকাশিত এমিলি সংক্রান্ত ফাইলগুলি থেকে একটা সত‍্যসন্ধানী দৃষ্টি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ১৯৪৫ এর ১৬ আগস্ট তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনার  সাজানো গল্প কে সত‍্য বলে ব্রিটিশ সরকার যেমন আদৌ মানেনি ঠিক তেমনি ভারতের শাসক সম্প্রদায় প্রকাশ‍্যে 'ছাইভস্ম' নিয়ে নানা উদ‍্যোগ নিলেও  গোপনে নেতাজি সত‍্য যাতে প্রকাশ‍্যে না আসে, তার জন‍্য কেউ কেউ, কোনও প্রভাবশালী গোষ্ঠী আজীবন চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। কিন্তু 'সত‍্য যে কঠিন'। অনেক দেরীতে হলেও প্রকাশ‍্যে এসে গিয়েছে চীন ও রাশিয়াতে নেতাজীর অবস্থান ও সক্রিয় থাকার তথ‍্যসূত্র এবং অবশ‍্য তা 'বিমান দুর্ঘটানায় মৃত‍্যু'--র অনেক পরে।'মৃত ভূত' সুভাষের কন্ঠস্বর তিনবার আন্তর্জাতিক বেতারে ভেসে এসেছিলো এমন কথা 'অলীক' কল্পনাবলে একসময় উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলেও রাজ‍্য ও কেন্দ্রের ফাইলে সে সবের স্বীকৃতি মিলেছে। নেতাজির মেজদা শরৎ বসু নিশ্চিত হয়েই তাঁর সংবাদপত্রের ব‍্যানার হেডলাইন করেছিলেন 'নেতাজি ইন রেড চায়না'। কিন্তু অন‍্যতম চাঞ্চল‍্যকর তথ‍্যটি মিলেছে বিদেশ মন্ত্রকের পশ্চিম এশিয়া দপ্তরের একটি ফাইলে। ফাইলটি ২০/৮/৬৯--এ লোকসভার প্রশ্ন-উত্তর সংক্রান্ত বিষয়বস্তুর অন্তর্গত। ঐতিহাসিক তাসখন্দ চুক্তির সময় মস্কো রেডিও থেকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভাষন সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন সংসদ সদস‍্য সমর গুহ। ফাইলটির কভারে ১৯৮৩ সাল ও ১৮৯৬ সালের উল্লেখ থাকে এবং কয়েক বছর আগে তাঁকে আটকে রাখার নোট দেওয়া আছে। নেতাজি তদন্তে নিযুক্ত মুখার্জি কমিশন তাসখন্দ চুক্তির সময় মস্কো রেডিও থেকে সুভাষচন্দ্র বসুর ভাষন সংক্রান্ত ফাইলপত্তর বারবার দাবি করলেও সে সময় ভারত সরকার তা প্রত‍্যাখান করেছিলো। প্রকাশিত ফাইলে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, মস্কো রেডিওর। হিন্দি বিভাগের গ‍্যালিনা একটি চিঠিতে স্পষ্টভাবে লিখেছে যে সুভাষচন্দ্রের অনুমতি ছাড়া তাঁর ঠিকানা কাউকে জানানো সম্ভব নয়। 'We are unable to farnish the address  of Subhas Chandra to any one without obtaining his permission kindly excuse.'*(দেশ ও বাংলার স্বার্থ সামান‍্যতম ক্ষুন্ন হবে এরকম কোনও ইস‍্যুতেই আপস করেননি সুভাষচন্দ্র)*উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালে ১০ জানুয়ারি রাশিয়ার তাসখন্দে রুশ রাষ্ট্রপ্রধান পেজিগিন, পাক প্রেসিডেন্ট আয়ুব খান, জুলফিকর আলি ভুট্টো ও ভারতের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী  লালবাহাদুর শাস্ত্রীর উপস্থিতিতে যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিলো, সেদিন তার ভিডিও ফুটেজে রহস‍্যময় ব‍্যাক্তির ছবি দেখা গিয়েছে। ব্রিটেনের ফেসম‍্যাপিং বিশেষজ্ঞ জন মেরিল তাঁর ফরেনসিক রিপোর্টে জানিয়েছেন যে, ভারতীয় নেতা সুভাষচন্দ্র বসুর মুখবায়বের সঙ্গে প্রচুর মিল রয়েছে তাঁর। শাস্ত্রিজীও নাকি সেখানে ভারতের নিখোঁজ দেশপ্রেমিকের খোঁজ সেদিন পেয়েছিলেন এবং দেশে ফিরে যে ঘোষনা তিনি করবেন এমনটাই সাম্প্রতিককালে শাস্ত্রিজীর পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের রাতেই রহস‍্যময় পরিস্থতিতে হঠাৎ শাস্ত্রিজী প্রয়াত হন।আরও রহস‍্যময়, আজও তাঁর মৃত‍্যুর প্রকৃত কারন অজানা। ভারতের ফেরার আগেই তাঁকে সরিয়ে দিতে হল কেন ? তা অনুমান করা যায়। তাসখন্দম‍্যান নেতাজি রহস‍্যের এক অন‍্য অধ‍্যায়। কিন্তু যারা সাম্প্রতিককালেও রুশ কারাগারে কখনও ফাঁসিতে, কখনও গুলিতে, কখনও বা অত‍্যাচারে সুভাষচন্দ্রের নিহত হবার তত্ত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন তাঁরা তাঁদের দাবির সপক্ষে একটি নথিও প্রকাশ করতে পারেননি আজ পর্যন্ত। উল্লেখ্য, এক সময় মস্কো রেডিও থেকে জনৈক সুভাষ নামধারী কোনও ভারতীয় ছাত্র হয়তো ভাষন দিয়েছে এমন কথাও বলা হয়। গোপন অনুসন্ধানে যা ফাইলে প্রকাশিত নথিতে দেখা গিয়েছে যে, তিনজন সুভাষ নামধারী ছাত্র সেসময় রাশিয়াতে পড়াশোনা করতে গেলেও তাঁদের কারওরই পদবি বসু ছিল না। সে সময়ের সোভিয়েত রাশিয়ায় কমিউনিস্ট কঠোরতার মধ‍্যে জনৈক সুভাষ নামধারী ছাত্র হঠাৎ মস্কো রেডিওতে ভাষন দেবেন তা শুধু অবাস্তবই নয়, স্রেফ হাস‍্যকর।*(নেতাজির চাপেই বন্দেমাতরম্--কে প্রদেশ সরকারগুলি বাধ‍্য হয়েছিল স্থায়ীভাবে গ্রহন করতে)*নেতাজী সম্পর্কে গড়ে তোলা নানা মিথ‍্যার ভিত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে সরকারী ফাইলগুলির দৌলতে। আজান্দ হিন্দ সরকারের কোটি কোটি টাকা, অর্থ, সম্পদ লুট হয়ে যায়। দেশের প্রথম ফ্রধানমন্ত্রী নিজের ব‍্যাক্তিগত অ‍্যাকাউন্টে ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব‍্যাংকে আজাদ হিন্দ ফান্ডের প্রচুর অর্থজমা করেন এমন নথির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে মহাফেজখানার সংরক্ষিত ফাইলগুলিতে। দেশের প্রথম আর্থিক কেলেঙ্কারি শুধু নয়, নেতাজীর চরিত্র হননের সুগভীর চক্রান্তের হদিশ মিলেছে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬তাড়িখে 'নেতাজি পেপারস্ ডট গভ ডট ইন' (netajipapers.gov.in) এই ওয়েবসাইটে। নেহেরুজি একদা সুহৃদ সুভাষচন্দ্রকে 'যুদ্ধাপরাধী' তকমা দিয়েছিলেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন যে, রাশিয়া সুভাষচন্দ্রকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সেই নেহেরুজি শুধু বসু পরিবার নয়, নেতাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকের উপর নজরদারী চালিয়েছিলেন। বাংলার মুখ‍্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের সঙ্গে গোপন চিঠিপত্র চালাচালি করেছেন। কীভাবে 'চিতাভস্ম'  ভারতে আনা যায়,  অ‍্যানিটা ব্রিজেট  সেঙ্কেলকে দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রদান করা এবং বসু পদবী কীভাবে দেওয়া যায় ইত‍্যাদি বিষয় নিয়ে চিঠিতে পরামর্শ করার নথি পাওয়া গিয়েছে। বিদেশে গিয়ে সুভাষের 'স্ত্রী' এমিলির সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করেন এবং মাসে মাসে টাকা পাঠানোর ব‍্যাবস্থাও করেন। একটি দীর্ঘ হিসাবও পাওয়া গিয়েছে। একটি ফাইলে এমিলি সেঙ্কেলকে ৩২ হাজার টাকার উপর দেওয়া হয়েছে উল্লেখ রয়েছে। এত কান্ডের পরেও আসল বেড়াল ঝুলি থেকে বেরিয়ে পড়েছে। গোপনে সুভাষচন্দ্রের ভাইপো এমিলির ম‍্যারেজ সার্টিফিকেট ও অ‍্যানিটার বার্থ সার্টিফিকেটের সন্ধান করছেন এমন চিঠি পাওয়া মিলেছে। ১৯৮০ সাল বাংলার তৎকালীন রাজ‍্যপাল ত্রিভুবন নারায়ন সিং গোপনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে জানতে চেয়েছেন এমিলির পরিচয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে যে, তাঁদের দপ্তরে সুভাষচন্দ্র কোনও বিদেশিনীকে বিবাহ করেছেন বা কোনও কন‍্যা সন্তান আছে এমন কোনও তথ‍্য নেই। তাহলে কীসের ভিত্তিতে জওহারলাল নেহেরু ও পরবর্তীকালেও লক্ষাধিক টাকা এমিলিকে দেওয়া হতো ?  এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না মিললেও বিস্ফোরক তথ‍্যের সন্ধান মিলেছে নেতাজি ফাইল প্রকাশের ধারাবাহিকতার সূত্রে। ভিয়েনায় নেতাজি কন‍্যা বলে কথিত অ‍্যানিটার জন্মের শংসাপত্রের ইংরেজি অনুবাদ পাওয়া গিয়েছে। ভিয়েনার রেজিস্টার অফিস ৪ ডিসেম্বর ১৯৪২ সালে দেওয়া অ‍্যানিটার বার্থ সার্টিফিকেটে কন‍্যার নাম অ‍্যানিটা  ব্রিজেট সেঙ্কেল (Anita Brigitte Schenkl)--এর জন্মের তাড়িখ ২৯ নভেম্বর, ১৯৪২। মায়ের নাম এমিলি ক‍্যারোলিন সেঙ্কেল (Emilie Karoline Schenkl)। পোস্ট অফিস কর্মী বলে লেখা হয়েছে। ওই ইংরেজি অনুবাদ করা শংসাপত্রে 'চেঞ্জ অব এন্ট্রি' স্থানটি ফাঁকা রাখা হয়েছে। কন‍্যার বাবার নাম নেই। অ‍্যানিটার পদবীতে 'সেঙ্কেল'--এর সঙ্গে রহস‍্যময়ভাবে 'ব্রিজিট' পদবীটি এসেছে। উল্লেখ্য, অতি গোপনীয় ওই ফাইলে রাজ‍্যপাল ত্রিভুবন নারায়ন সিং--এর কাছে তৎকালীন স্বাধীনতা সংগ্রামী সংগঠনের প্রধান অরুন ঘোষ অ‍্যানিটার বাবার নাম কর্নেল পি ব্রিজিট বলে উল্লেখ করেছেন বলে জানা যাচ্ছে। আরও একটি ভিয়েনার ভাইস কনস‍্যুলেটে একটি আবেদনপত্র লিখেছেন যে, অ‍্যানিটাকে 'বোস' পদবী দেওয়া হোক ও সুভাষ বোসকে তার বাবা হিসাবে নথিভুক্ত (রেজিস্টার) করা হোক। তার দাবীর সপক্ষে তিনি পিতৃপরিচয় অনুল্লেখ করা অ‍্যানিটার বার্থ সার্টিফিকেটের  ইংরেজি কপিটিও বাংলা ভাষায় মেজদা শরৎচন্দ্র বসুকে সুভাষচন্দ্রের লেখা বলে কথিত সন্দেহজনক চিঠির প্রতিলিপি পেশ করেন, সুভাষচন্দ্র জীবনে কখনো মেজদা শরৎচন্দ্র বসুকে বাংলা ভাষায় চিঠি লেখননি, এমনকি ওই চিঠিটির বয়ানেও কোথাও স্ত্রী এমিলি বা কন‍্যা অ‍্যানিটার নাম উল্লেখ নেই। যে কোনও মহিলায় ওই চিঠিটি নিজের স্বার্থে ব‍্যবহার করতে পারতেন। আইনি ভিত্তিহীন ওই দু'টি সূত্রকেই চিঠিতে জুড়ে দিয়েছিলেন। বিস্ময়কর ভাবে ওই আবেদন পড়ে এমিলি শুধুমাত্র ইনিশিয়াল করেছেন। পরিচিত এমিলির স্বাক্ষর নেই।১৯৬৮ সালের ১৯ এপ্রিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধিকে একটি গোপন চিঠি লিখেছেন নেতাজির ভাইপো ও তৎকালীন নেতাজি রিসার্চ ব‍্যুরো প্রধান শিশিরকুমার বসু। জানতে চেয়েছেন কলকাতা থেকে তাঁর কাকা সুভাষচন্দ্র কীভাবে ইউরোপে গেলেন। ফাইলে ইন্দিরা গান্ধীর উত্তর পাওয়া না গেলেও ১৯৭০ সাল থেকে তিনি বলেন এবং'মহানিস্ক্রমন' বই লিখে বলেন তিনিই ১৯৪১ সালের ১৬ জানুয়ারি মধ‍্যরাতে ছদ্মবেশী সুভাষচন্দ্রকে বাড়ি থেকে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যান। প্রশ্ন উঠবেই--এতদিন উনি চুপ ছিলেন কেন ?  এমনকি রাজ‍্য সরকার প্রকাশিত কোনও ফাইলে শিশিরকুমারের মহান স্বার্থের ব‍্যাপারে কোনও ভূমিকার ইঙ্গিত মাত্র নেই। অথচ ব্রিটিশ গোয়ান্দারা সেই সময় এলগিন রোডের বাড়িতে আসা- যাওয়া করা প্রতিটি গাড়ির খুঁটিনাটি লিপিবদ্ধ করে রাখতো তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও কেন্দ্র প্রকাশিত ফাইলগুলিতে তথাকথিত নেতাজির চিতাভস্ম সংরক্ষণ এবং কীভাবে ভারতে নিয়ে আসা যায় সে সংক্রান্ত অজস্র চিঠিচাপাটির সন্ধান মিলেছে। সরকারি ফাইলে সুভাষচন্দ্রের সংগ্রামী জীবনের নানা দিক উঠে এসেছে। ফৈজাবাদে চলে আসা সাধুর ওপর ১৯৭৪ সালে গোয়েন্দা নজরদারির উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে, যা এই স্বল্প পরিসরে উল্লেখ সম্ভব নয়।আজ নেতাজির প্রতি ফাইল প্রকাশের পর একটি কথায় মনে আসে---"ক্ষমা করো নেতাজি !"বন্দেমাতরম্জয় হিন্দ !সত‍্যমেব জয়তে....তথ‍্যসূত্র--1) Internet link১) http://nationalarchives.nic.in/content/netaji-papers#:~:text=Netaji%20Papers-,Netaji%20Papers,make%20them%20accessible%20to%20public.&text=The%20first%20lot%20of%2033,India%20on%204%20December%202015=======================২) http://www.netajipapers.gov.in/=======================৩) https://www.theweek.in/news/india/2020/02/06/history-will-change-if-netaji-files-are-declassified.html=======================৪) https://www.ndtv.com/topic/netaji-files=======================৫) https://www.firstpost.com/tag/netaji-files=======================৬) http://www.netajipapers.gov.in/content/prime-ministers-office-pmo26478-pm=======================৭) http://www.netajipapers.gov.in/all-papers=======================2) উদ‍্যত খড়্গ-অচিন্তকুমার সেনগুপ্ত3) আমি সুভাষ বলছি ( প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় খন্ড)--শৈলেশ দে4) মহানিষ্ক্রমন--শিশির কুমার বসু5) বীর বিপ্লবী নেতাজী সুভাষচন্দ্রবসু--অলোককুমার সেন6) বর্তমান সংবাদপত্র7) আনন্দবাজার পত্রিকা সংবাদপত্র

স্বাধীনতার মানে
 15 August 2020  
Art

১৯৪৭ সালের ১৫ ই অগাস্ট দীর্ঘ ২০০ বছরের ব্রিটিশ করায়ত্ত থেকে ভারতবাসী মুক্তি পেয়েছিল। সুতরাং প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের কাছে এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় গনতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে ভারতবর্ষ প্রতিষ্ঠিত। শক, হুণ, মোঘল, পাঠান প্রভৃতি বৈদেশিক শক্তি ভারতবর্ষকে আক্রমণ করেছে, ইতিহাস ক্ষতবিক্ষত করেছে , কিন্তু ভারতবর্ষের রূপ অমলিন রয়ে গেছে। এরপর আসে ইংরেজ শাসন- নেতাজী সুভাষচন্দ্র, গান্ধীজি, বাল গঙ্গাধর তিলক, ভগৎ সিং প্রমুখ স্বাধীনতা সংগ্রামীর আত্মবলিদানে আজ আমরা স্বাধীন। তাই এই দিনে একজন ভারতীয় হিসেবে আমাদের কর্তব্য সেইসব স্বাধীনতার অমর জ্যোতি যারা দেশের জন্য প্রান ত্যাগ করেছেন তাদেরকে শ্রদ্ধা জানানো। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আজকের দিনে আপামর দেশবাসী পতাকা উত্তোলন করে, মিষ্টি বিতরণ করে একে অপরের সাথে। সামাজিক সম্প্রীতির এক বড় দিন হিসেবে আজকের এই দিনটি পালিত হয়।

বাংলা সাহিত্যে সরস রচনা
 10 August 2020  
Art

     বাংলা সরস রচনা                     নন্দিতা মিশ্র চক্রবর্তীবাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা হল সরস রচনা বা হাস্যরসাত্মক রচনা। বিষয়ভবনা এবং সৃষ্টিশৈলীতে বাংলা গল্প ও প্রবন্ধ বিশ্বসাহিত্যের শীর্ষস্থানে পা রেখেছে। বিগত পঞ্চাশ বছর ধরে বাংলা সাহিত্যে হিউমার বা সরস রচনা একটি বিশেষ স্থান লাভ করেছে। বর্তমানে যদিও সাহিত্যের এই ধারাটি বেশ ক্ষীণ হয়ে গেছে, তবে একেবারে তা লুপ্ত হয়নি। বাংলা সাহিত্যে ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়, রাজশেখর বসু ( ছদ্মনামঃ পরশুরাম), প্রেমেন্দ্র মিত্র, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, শিবরাম চক্রবর্তী ছাড়াও বর্তমান কালের সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, তারাপদ রায় ও চন্দ্রিল ভট্টাচার্য প্রভৃতি লেখকেরা সরস রচনায় অগ্রগন্য। সুকুমার রায় ছোটদের জন্য সরস রচনা লিখে বাংলাসাহিত্যে একটি নতুন ধারার উদ্ভব করেছেন। হাস্যরসাত্মক সরস রচনা লিখেছেন যেসব নারীরা তাঁদের মধ্যে আশাপূর্ণাদেবী ও নবনীতা দেবসেন অন্যতম। বৃটিশ শব্দ হিউমার কথাটি এসেছে গ্রীক শব্দ হিউমোরাস থেকে। প্রাচীন গ্রীসে একধরণের প্রাচীন ওষুধের নাম ছিল হিউমোরাল, যা মানবদেহ রসসিক্ত করত বলে বিশ্বাস করা হত। শরীরের সেই রসকে বলা হত হিউমোরাস। এই শব্দ থেকে ল্যাটিন হিউমোর শব্দের উৎপত্তি এবং ল্যাটিন হিউমোর থেকে বৃটিশ হিউমার শব্দটি এসেছে।হিউমার অর্থাৎ সরস রচনা একটি সাহিত্যের ধারা। এই রচনা পাঠকের মনে নির্মল আনন্দের সৃষ্টি করে। নিত্য দিনযাপনের একঘেয়েমি দূর করে, পাঠকের মনকে সজীব করে এবং জীবনযাত্রার উদ্বেগ ভুলিয়ে দিয়ে স্নায়ুতন্ত্রকে সঞ্জীবিত করে।সিগময়েড ফ্রয়েড হিউমারের সামাজিক প্রকৃতি নির্ণয়ে ছয়টি বিষয়ের উল্লেখ করেছেন।The most favorable condition of the production of comic pleasure is a generally cheerful mood in which one is inclined to laugh.A similarly favorable effect is produced by an expectation of the comic, by being attuned to comic pleasure.Unfavorable conditions for the comic arise from the kind of mental activity with which a particular person is occupied at the moment.The opportunity for the release of comic pleasure disappears, too, if the attention is focused precisely on the comparison from which the comic may emerge.The comic is greatly interfered with if the situation from which it ought to develop gives rise at the same time to a release of strong affect.Generating of comic pleasure can be encouraged by any other accompanying circumstance.হিউমার বা হাস্যরসের প্রভাব মানব জীবনে সকল মানুষের উপর দেখা যায়। এই হিউমারের উপস্থিতি জীবজগতে একমাত্র মানুষের মধ্যেই দেখা যায়, মানুষ ছাড়া অন্য জীবেরা হাসতে পারে না। হার্ভে বলেছেন হিউমার হল, '' A frame of mind, a manner of perceiving and experiencing life…. a kind of outlook, a peculiar point of view, and one which has great therapeutic power.'' থমাস হব্ বলেছেন,''The passion laughter is nothing else but sudden glory arising from some sudden conception of some eminency in ourselves, by comparison with the infirmity of others, or with our own formerly: for men laugh at the follies of themselves past, when they come suddenly to remembrance, except they bring with them any present dishonor.''বিংশ শতাব্দীর প্রথম থেকেই হিউমার একটি চাপ কমানোর উপশমকারী মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত হয়। যাকে ফ্রয়েড বলেছেন কমিক রিলিফ। তিনি বলেছেন হাস্যরস কেবল আমাদের চাপ মুক্তই করে না, এর মাধ্যমে মানুষ নির্মল আনন্দও পেয়ে থাকে। হাস্যরসের ধারাকে সাধারণভাবে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। বাংলা সাহিত্যেও বিভিন্ন ধারার হাস্যরস ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। এখন বিভাগগুলি সম্পর্কে আলোচনা করে ও সেই সঙ্গে বাংলাসাহিত্যে সেই ধারার ব্যবহার সম্পর্কে আলোচনা করা যেতে পারে। প্রথমটি হল, হাইপারবোল বা এক্সাগারেশনঃ- এক্ষেত্রে অতিকথন বা প্রসঙ্গ বিচ্যুত বা অস্বাভাবিক অতিশয়োক্তির প্রয়োগ করা হয়। যা এতটাই অস্বাভাবিক যে মানবমন সহজেই তার অস্বাভাবিকতা অনুধাবন করে নির্মল আনন্দ পায় এবং তা থেকে হাস্যরসের উপাদান পেয়ে থাকে। এই ধারার রচনায় প্রথমেই যাঁর নামটি আসবে, তিনি হলেন ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়। তাঁর লেখায় সমাজের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গবিদ্রূপ ছাড়াও হাইপারবোল বা অস্বাভাবিক অবস্থা এবং অতিকথন বা এক্সাগারেশন দুটিরই ব্যবহার দেখা যায়। অস্বাভাবিকতা এবং অলীক ও অবাস্তব পরিস্থিতি হাসির উদ্রেক করে। কঙ্কাবতী উপন্যাসে কঙ্কাবতীর জলের নীচে মাছের দেশে চলে যায়, এবং সেখানে মাছ ও কাঁকড়ারা তাকে নতুন জামা কাপড় পরে তাদের রানি হতে বলে। কঙ্কাবতীর কাছে নতুন পোশাক না থাকায়, তারা কঙ্কাবতীকে নিয়ে দর্জির বাড়ি যায়। খেতুর মানুষ থেকে বাঘ হয়ে যাওয়া এবং বাঘের বেশে কঙ্কাবতীকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া সবই হল হাইপারবোলের উদাহরণ। কিছুটা রূপকথার ছলে লেখা এই উপন্যাসে আছে যাদুবাস্তবতার আবেশ। শেষে জানা যায়, কঙ্কাবতী জ্বরের ঘোরে সবটাই স্বপ্ন দেখছিল।ডমরু চরিতে আবার হাইপারবোল এবং এক্সাগারেশন একই সঙ্গে দেখা যায়। ডমরুধরের বয়স পয়ষট্টি। এই বয়সে তার মনে বিয়ের সাধ জেগেছে। তার মাথায় টাক পড়েছে, গায়ের রং আবলুশ কাঠের মত কালো, ঠোঁটের দু পাশে আবার শ্বেতী। এই হেন ডমরু তৃতীয়বার বিয়ে করতে চলেছে। এক ঘটকীর পরামর্শে সে পাত্রী খুঁজে পেল। গল্পের শুরুতেই ডমরুধর তা জানিয়েছে। কলকাতার দক্ষিণে একটি গ্রামে ডমরুধরের বাড়ি। সারাজীবন সে চরম কৃপণতা করে শেষ বয়সে এসে অনেক সঞ্চয় করেছে। তার পাকা বাড়ি হয়েছে। বাড়িতে সে এখন দুর্গাপুজো করে। পুজো উপলক্ষে লম্বোদর প্রভৃতিরা তার বাড়ির দালানে দুর্গামণ্ডপে এসে বসেছে। ডমরুধর তার বিয়ের সামান্য আগে সে কেমন বিপদে পড়েছিল এবং কী ভাবে সেই বিপদ থেকে মা দুর্গার কৃপায় উদ্ধার পেয়েছে তা গল্প করছে। ডমরুধর একবার এক সন্ন্যাসীর মাধ্যমে মহা বিপদে পড়েছিল। মা দুর্গার কৃপায় বহু ঝামেলার পর কোনো মতে সে সেই সঙ্কট থেকে মুক্তি পেয়েছিল। সন্ন্যাসীটি ভণ্ড। সারাদিন সে না খেয়ে গাছের ডালে উলটো হয়ে অর্থাৎ মাথা নীচে এবং পা উপরে রেখে ঝুলে থাকে। রাত্রে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে নেমে এসে নানা রকম সুখাদ্য খায়। গাছটি ডমরুর হওয়ায় সে প্রণামীর টাকার অংশ পাচ্ছিল। তাই সন্ন্যাসীর বুজরুকি ডমরু মেনে নিয়েছিল। সন্ন্যাসী একদিন এসে ডমরুর সমস্ত সম্পত্তি দ্বিগুণ করে দেবে বলল। প্রথমটা বুজরুকি ভেবে ডমরুধর রাজি হয়নি। সন্ন্যাসী অনেক অনুনয় বিনয় করায় এবং প্রমান দেখানোয় ডমরুর কৌতূহল হল। সে তখন তার সমস্ত সম্পত্তি একটি লোহার সিন্দুকে ভরে সন্ন্যাসীকে নিয়ে একটি ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল। সন্ন্যাসী যাতে পালিয়ে যেতে না পারে তারজন্য সে একজন চাকরকে দরজার বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখল। ঘরের ভেতর সন্ন্যাসী আগুন জ্বেলে হোম শুরু করল। আগুনে কী একটা জিনিস দিতে সমস্ত ঘর সবুজ ধোঁয়ায় ভরে গেল এবং ডমরুধর অজ্ঞান হয়ে গেল। এরপরেই শুরু হল চরম এক্সাগারেশন। এমন সময় ডমরুধর অনুভব করল, তার সূক্ষ্ম শরীর দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এরপর সে গ্রহ নক্ষত্র ভরা মহাকাশ পেরিয়ে যমলোকে এসে পৌঁছাল। পৌঁছে দেখল যমরাজ একজন লোককে তার চোদ্দপুরুষসহ রৌরব নরকে পাঠাচ্ছেন। কারণ, লোকটি একাদশীর দিন পুঁইশাক খেয়েছিল। এই কথা শুনে ডমরুধর বলল, সে একাদশীর দিন কখনও পুঁইশাক খায়নি।  যমরাজ তখন তার উপর দারুণ খুশি হলেন এবং তাকে তক্ষুণি স্বর্গে পাঠাতে এই মর্মে চিত্রগুপ্তকে নির্দেশ দিলেন। যমরাজের এই আদেশ শুনে চিত্রগুপ্তের হিংসা হল। সে তখন যমকে জানালো ডমরু আসলে একজন জীবিত মানুষ। তাই তার শরীর থেকে মানুষের বিকট আঁসটে গন্ধ আসছে। যমরাজ ডমরু জীবিত আছে তা শুনে বিরক্ত হয়ে বললেন, ডমরুকে দশ ঘা ডাঙ্গসের বারি মেরে এক্ষুণি মর্ত্যে পাঠিয়ে দিতে। ডাঙ্গস খেয়ে ডমরু তার বাড়ির ছাদ ফুঁড়ে নিজের পুজোর ঘরে এসে উপস্থিত হল। তবে সন্ন্যাসীর চক্রান্তে তাদের দুজনের সূক্ষ্ম শরীর দেহ পরিবর্তন করল। ডমরুর সূক্ষ্ম শরীর অন্ধ সন্ন্যাসীর শরীরে এবং সন্ন্যাসীর শরীর ডমরুর দেহে প্রবেশ করল। এরপর আরও অসংখ্য অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে লাগল, তাকে হাইপারবোল এবং এক্সাগারেশন দুটোরই উদাহরণ বলা যেতে পারে। ডমরুর সূক্ষ্ম শরীর এরপর বাঘের দেহ বিহীন ছালের ভেতর ঢুকল। সেই বাঘবেশী ডমরু বররূপী সন্ন্যাসীকে ভয় দেখিয়ে তার দেহ থেকে সূক্ষ্ম শরীরকে আলাদা করে দিল। সব শেষে ডমরু নিজের শরীর ফিরে পেল। তারপর এলোকেশীর সঙ্গে তার বিয়ে হল। এই সিরিজের অন্য গল্পে মাছ ধরতে গিয়ে ডমরুর ন্যাংটা ভূতে পরিণত হওয়া হাইপারবোল এবং অপর একটি গল্পে চড়ুই পাখির মত বড় আর বিষাক্ত মশার বর্ণনা এক্সাগারেশনের উদাহরণ।নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের টেনিদা সিরিজের কিছু গল্পে এমনই এক্সাগারেশনের ছড়াছড়ি। দশানন চরিত গল্পে দশানন এক অতি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন পকেটমার। তার দাপটে মানুষ ব্যতিব্যস্ত হয়ে গেল। ইংরেজ পুলিশের বড়কর্তা দশাননকে সুন্দরবনে চালান করলেন, বলে দিলেন, বনে গিয়ে দশানন যেন বাঘের পকেট কাটে। সুন্দরবনের জঙ্গলে গিয়ে দশানন বাঘের পকেট কাটেনি তবে ভূতের পকেট কেটে বহু মোহর সংগ্রহ করে দেশে ফিরে বহু দান ধ্যান করে একজন বিরাট বিখ্যাত মানুষে পরিণত হল।'চেঙ্গিস আর হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা' গল্পে মঙ্গোলিয়ানদের দাড়ি থেকে ছারপোকা দূর করে দিয়ে টাকা না পেয়ে হ্যামলিন মঙ্গোলিয়ানদের সবার গাল থেকে দাড়ি উপড়ে নিল। তারপর থেকে তাদের আর ভালো করে কখনও গোঁফ দাড়ি গজায়নি। এই গল্পে হাইপারবোল চরম হিউমার সৃষ্টি করেছে। কিংবা 'তত্ত্ববধান মানে জীবে প্রেম' গল্পে ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে টেনিদা আর প্যালার ঘরের বেহাল দশা করাও হাইপারবোলের উদাহরণ।দ্বিতীয় হল ইনকনগ্রুইটি বা অসংগতঃ- এটিও হাইপারবোলেরই একটি অন্য নিদর্শন। তবে এতে অস্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। যা কোনো ভাবেই বাস্তব সম্মত নয়। যেমন পরশুরামের 'ভুশণ্ডীর মাঠে' গল্পটি। গল্পে শিবু ভট্টাচার্যের মনে সুখ ছিল না। তার স্ত্রী নৃত্যকালীর আঁটো সাঁটো মজবুত গড়ন এবং দুর্দান্ত স্বভাব। সে মন দিয়ে স্বামীর সেবা করলেও শিবু তা থেকে কোনো রস খুঁজে পেত না। সামান্য খুঁটিনাটি নিয়ে তাদের নিত্য অশান্তি লেগেই থাকত। একদিন নৃত্যকালী গুজব শুনল শিবুর চরিত্রদোষ ঘটেছে। এরপর সে আর স্থির থাকতে পারল না। শিবুকে সে ঝাঁটাপেটা করল। শিবু পরেরদিন কলকাতা যাত্রা করল। সেখানে কালীঘাটে  গিয়ে পাঁচটাকার পুজো দিয়ে মা কালীকে মানত করল, যেন নৃত্যকালীর কলেরায় প্রাণ যায়। তারপর সারাদিন ধরে শিবু নানা রকম অপথ্য খেল। শেষে অসুস্থ হয়ে গ্রামে ফিরল। মা কালী বুঝতে ভুল করে, নৃত্যকালীর জায়গায় শিবুর মৃত্যু ধার্য করলেন। কলেরায় শিবুর প্রাণ গেল। মৃত্যু হলে সে ভুশণ্ডীর মাঠের একটি বেলগাছে ভূত হয়ে আশ্রয় নিল। মরেও তার স্বভাব যায়নি। পেত্নী, শাঁকচুন্নী ও ডাকিনীদের দিকে তার নজর। এদিকে আরও দুটি পুরুষ ভূত শিবুর বন্ধু হল। শেষ পর্যন্ত ডাকিনীই শিবুর মন চুরি করল। শিবু ডাকিনীকে বিয়ে করতে রওনা হল। টিঁকিতে তেলাকুচোর পাকা ফল বাঁধল, গাবের আঠা দিয়ে পৈতে কেচে নিল, ফণিমনসার বুরুশ দিয়ে চুল আঁচড়াল, তারপর ক্ষীর বামনীকে ভৌতিক পদ্ধতিতে বিয়ে করতে চলল। ডাকিনীর মুখ এতদিন কখনই দেখতে পায়নি শিবু। বিয়ের সময় ঘোমটা খুলতেই শিবু অবাক! ডাকিনী যে তার স্ত্রী নেত্যকালী! নৃত্যকালী রেগে গিয়ে বলল, শিবু কী করে ভাবল এত সহজে সে তার হাত থেকে মুক্তি পাবে? এরপর শুরু হল জবর গণ্ডগোল। মেছোপেত্নী ও শাঁকচুন্নীও শিবুকে বিয়ে করতে চায়, এদিকে শিবুর দুই ভূত বন্ধুও নেত্যকালীকে তাদের আগের আগের কোনো জন্মের স্ত্রী হিসেবে চিনতে পারল। শিবু ও নেত্যকালীকে নিয়ে শুরু হল তুমুল ঝগড়া ও বাক বিতণ্ডা। গল্প সেখানেই শেষ হয়েছে। এই পর্যায়ের উদাহরণে আরও একটি গল্পের উল্লেখ করা যেতে পারে। চন্দ্রিল ভট্টাচার্যের 'নোয়ার নাও।' শুরু হচ্ছে এইভাবে পৃথিবী জলের তলায় চলে যাচ্ছে। একটি নৌকায়, নোয়ার নৌকার স্টাইলে সমস্ত পৃথিবী থেকে শ্রেষ্ঠ দশজন নারী পুরুষ তুলে নেওয়া হবে। তাই নিয়ে তুমুল গণ্ডগোল ও হুজুগ চলছে। চল্লিশদিন ধরে তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে সমস্ত পৃথিবী জুড়ে। বিশ বাঁও ঘূর্ণীতে চরকি খাচ্ছে আইফেল টাওয়ার। বেকহাম দোতলা সাবমেরিনের অর্ডার দিচ্ছেন। জল লেগে ঐশ্বর্য রাইয়ের পায়ে হাজা দেখা দিয়েছে। সলমন খান মৎস্যকন্যাদের দলের সঙ্গে ভেগে গেছেন। বুলা চৌধুরীর সাঁতারের কোচিংয়ে ভর্তি হতে খুনোখুনি চলছে। চন্দ্রিলের ভাষায় 'গোটা সভ্যতার রোয়াবরেলা শেষ।' অস্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে তুমুল হাস্যরসের সৃষ্টি করেছেন তিনি।তৃতীয় হল,স্ল্যাপস্টিকঃ- এই ধরণের রচনায় হাস্যরস সৃষ্টি হয়েছে একটু প্রহসনের ভঙ্গিতে। যেমন গোপাল ভাঁড়ের গল্পগুলি। শাশুড়ি জামাইকে নিয়ে আদিরসাত্মক ঘটনা, রাজাকে ঠকানো ইত্যাদি। এই পর্যায়ে আধুনিক কালের একটি অসাধারণ গল্পের উদাহরণ হল তারাপদ রায়ের 'লাথ্যৌষধি।'লেখক সকালে মর্নিংওয়াক করতে ময়দানে আসেন। সেখানে নানা রকমের লোক আসেন মর্নিং ওয়াকে। বিভিন্ন লোক বিভিন্ন কায়দায় মর্নিং ওয়াক করেন। কেউ হাঁটার সময় হাত দুটোকে সুদর্শন চক্রের মতো বোঁ বোঁ করে ঘোরান, কেউ আবার জোরে জোরে ছোটার সময় মুখে ভয়ানক জোরে আ- আ- আ শব্দ করেন। একজন হাফপ্যান্ট পরা মহিলা আসেন, তিনি হাঁটতে পারেন না। কেবল ময়দানের বেঞ্চে বসে সেটিকে ভাঙার চেষ্টা করেন। বেঞ্চে বসতেই তাঁর প্রচণ্ড পরিশ্রম হয়। একজন বিশেষ কেউকেটা ব্যক্তি আসেন। তাঁকে সবাই ডাকে, ম্যানেজার সাহেব। লেখক সংক্ষেপে তাঁর নাম রেখেছেন ম্যাসা। তিনি পিছন দিকে ছোটেন। লেখক সভয়ে তাঁকে এড়িয়ে যান। কারণ বিরাটাকায় সেই মানুষ যদি লেখকের ঘাড়ে পড়েন, তাহলে তাঁকে প্রাণে মরতে হবে।একদিন ভদ্রলোক লেখকের প্রায় গায়ের উপর পড়ে যাচ্ছিলেন। লেখক ভয়ানক জোরে চেঁচিয়ে কোনোক্রমে প্রাণ বাঁচালেন। তা শুনে চমকে উঠে ম্যাসা পড়ে গেলেন। তাই নিয়ে অনেক গোলমাল হল। শেষে ম্যাসার স্ত্রী এসে পরপর লাথি মেরে কর্তার জ্ঞান ফেরালেন। এই ওষুধ যে প্রায়ই তিনি প্রয়োগ করেন, তা লেখক দেখে সহজেই বুঝলেন। তিনি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন এই কথা ভেবে, যে তার বাড়িতে এই জাতীয় ওষুধের ব্যবস্থা নেই।চতুর্থ হল,সারপ্রাইজঃ- এই ধারার রচনা সম্পর্কে বলা যায়, এমন বিস্ময়কর অবস্থার সৃষ্টি করা, যা থেকে কৌতুক সৃষ্টি হয়। যেমন, সুকুমার রায়ের কিছু মজার ছড়া।''কেউ কি জান সদাই কেন বোম্বাগড়ের রাজা---ছবির ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখেন আমসত্ত্ব ভাজা?রানীর মাথায় অষ্টপ্রহর কেন বালিশ বাঁধা?পাউরুটিতে পেরেক ঠোকে কেন রানীর দাদা?''কিংবা যখন স্বাভাবিক জিনিসেও যখন সন্দেহ প্রকাশ করা হয়, তা-ও হাসির উদ্রেক করে। যেমন—'' শুনছ্ দাদা! ঐ যে হোথায় বদ্যি বুড়ো থাকে,সে নাকি রোজ খাবার সময় হাত দিয়ে ভাত মাখে?শুনছি নাকি খিদেও পায় সারাদিন না খেলে? চক্ষু নাকি আপনি বোজে ঘুমটি তেমন পেলে?চলতে গেলে ঠ্যাং নাকি তার ভুঁয়ের পরে ঠেকেঁকান দিয়ে সব শোনে নাকি? চোখ দিয়ে সব দেখে?শোয় নাকি সে মুণ্ডুটাকে শিয়র পানে দিয়ে?হয় না কি হয় সত্যি মিথ্যা চল না গিয়ে দেখি।''পঞ্চমটি হল,সারকাসম্ঃ-এই ধারার সার্থক স্রষ্টা হলেন সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়। এখানে শ্লেষাত্মক বাক্য এবং বিদ্রূপের মাধ্যমে হাস্যরসের সৃষ্টি করা হয়। সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের 'রসেবশে' এমন কয়েকটি রম্যরচনার সংকলন। বর্তমান সমাজের অবক্ষয়, মূল্যবোধের অভাব ব্যঙ্গ বিদ্রূপের মাধ্যমে হাস্যরসের সৃষ্টি করে। চন্দ্রিল ভট্টাচার্যেরও কয়েকটি রচনা এর উদাহরন। সাগরমেলার হুজুগ এবং ধর্মীয় উন্মাদনা, কিংবা বাঙালির চিন্তার স্রষ্টা রবীন্দ্রনাথের নোবেল চুরি নিয়ে তার রম্য রচনার বই 'রস কষ সিঙাড়া বুলবুলি মস্তক' হাসির আড়ালে সমাজকে শ্লেষাত্মক কথায় বিদ্রূপ করেছে।ষষ্ঠটি হল আয়রনি বা ব্যঙ্গোক্তিঃ-  এই ধারার স্রষ্টা তপন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর 'রোমন্থন অথবা ভীমরতিপ্রাপ্তর পরচরিতচর্চা' এই জাতীয় রচনার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সরস স্যাটায়ার রচনায় তিনি সিদ্ধহস্ত। এ ছাড়া পরশুরাম এবং ত্রৈলোক্যনাথও এই ধরনের হিউমারে সিদ্ধহস্ত। পরশুরামের লালিমা পুং কিংবা বিরিঞ্চিবাবার মত চরিত্র সমাজের দু রকম স্বভাবের দ্বিচারি মানুষের কথা বলেছে। কঙ্কাবতী উপন্যাসে ত্রৈলোক্যনাথ খেতুর বরফ খাওয়াকে উপলক্ষ্য করে তাকে সমাজচ্যুত করার ঘটনা সামনে এনেছেন। তখনকার সমাজের এক অন্ধকার দিক এতে হাস্যরসের মাধ্যমে সামনে এসেছে। তারাপদ রায় আবার তাঁর রচনায় একটি অনবদ্য চরিত্র সৃষ্টি করেছেন। তার নাম পটললাল। সে একটি আদ্যপান্ত অসৎ মানুষ। এই ধরনের চরিত্র আমাদের সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। পটললালের নানা কীর্তি কাহিনি আছে। সে সুযোগ পেলে বেশ গুছিয়ে চুরি করে। মিথ্যে বলতেও ওস্তাদ। এর মাধ্যমেই সমাজের মুখোশধারী এমন ভণ্ড মানুষদের ব্যঙ্গ করেছেন লেখক।সপ্তম এবং শেষতমটি হল,পান্ বা দ্ব্যর্থবোধক শব্দের প্রয়োগঃ-এই ধারার উল্লেখ করব সুকুমার রায়ের 'অবাক জলপান' গল্পের মাধ্যমে। পথিক জল চাইতে বলেছেন,'জলপাই কোথায় বলতে পারেন?'উত্তর এসেছে, 'এখন জলপাইয়ের সময় নয়।' কিংবা সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের ''ভালো 'বাসা' মোরে ভিখিরি করেছে, তোমারে করেছে রানি।'' এখানে ভালোবাসা নয় ভালো, বাসা। অর্থাৎ বাড়ি করতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হওয়া এক কর্তার কথা বলেছেন লেখক। যার স্ত্রী ভালো বাড়ি পেয়ে গর্বিতা কিন্তু কর্তার পকেটটি গড়ের মাঠ। সব শেষে বলব, বাংলা সাহিত্যে যুগে যুগে যেসব অমর সরস রচনা সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য সত্যিই বাঙালি গর্বের দাবিদার এবং তা বিশ্বের তাবৎ হিউমারাস সাহিত্যের সমকক্ষ তো বটেই বরং কখনও কখনও বুদ্ধমত্তায় এবং পরিবেশনার গুণে তা সর্বোত্তম হয়ে উঠেছে।----------------------------------------------------------------------------------------

পেনড্রাইভ থেকে ফর্ম্যাট চেয়ে জিজ্ঞাসা করে কীভাবে ডেটা পুনরুদ্ধার করবেন তার দ্রুত সমাধান
 29 June 2020  
Art

যখন এটি গুরুত্বপূর্ণ ডেটা বা ব্যাকআপ ডেটা সংরক্ষণ করার কথা আসে তখন পেনড্রাইভটি সর্বদা ব্যবহারকারীদের প্রথম পছন্দ। এই দিনগুলিতে, ফ্ল্যাশ ড্রাইভ বিশ্বে বিশ্বে স্টোরেজ ডিভাইসগুলি ব্যবহার করে। তবে, ব্যবহারকারীরা প্রায়শই কোনও অজানা সমস্যার মুখোমুখি হন যেমন পেন ড্রাইভ এটির সাথে কাজ করার সময় ফর্ম্যাট জিজ্ঞাসা করা শুরু করে। মূলত, এটি বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ঘটে। তবে, কোনও ব্যবহারকারীর চূড়ান্ত ক্যোয়ারী হ'ল কীভাবে পেনড্রাইভ থেকে ফর্ম্যাটটি জিজ্ঞাসা করে ডেটা পুনরুদ্ধার করা যায়।আমার পেনড্রাইভ কেন এটি ফর্ম্যাট করতে জিজ্ঞাসা করে?প্রাথমিকভাবে আরও এগিয়ে যাওয়ার আগে আমাদের এই সমস্যাটি হওয়ার পিছনে কারণগুলি জানা উচিত। সুতরাং, এইভাবে, আপনি আপনার পেনড্রাইভ থেকে ভয়ঙ্কর জিনিসগুলি ঘটতে বাধা দিতে পারেন। নিম্নলিখিত ইউএসবি ড্রাইভের ফর্ম্যাট জিজ্ঞাসা করার সম্ভাব্য কারণগুলি।পেন ড্রাইভ ভাইরাস, ম্যালওয়ার বা কৃমি দ্বারা অত্যন্ত সংক্রামিতক্ষতি সংক্রান্ত সমস্যার কারণে ফাইল সিস্টেমটি উইন্ডোজ দ্বারা স্বীকৃত নয়।পেনড্রাইভটি অসম্পূর্ণভাবে টানা এবং জোর করে ইউএসবি পোর্ট থেকে বের করা।ফ্ল্যাশ ড্রাইভটি হ'ল ফাইল ফাইল স্থানান্তর করার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভক্ত হয়ে পড়ছে।ফর্ম্যাটের জন্য জিজ্ঞাসা করা পেন ড্রাইভ থেকে ম্যানুয়ালি ডেটা পুনরুদ্ধার করুনমূলত, এই বিভাগে, আমরা প্যানেল ড্রাইভ থেকে ফর্ম্যাটের জন্য জিজ্ঞাসা করে কীভাবে ডেটা পুনরুদ্ধার করবেন তা সমাধান করার জন্য ম্যানুয়াল সমাধানটি প্রকাশ করব। এখানে, পদ্ধতিটি কার্যকরভাবে আলোচনা করা হয়েছে। সুতরাং, প্রয়োজনীয় ফলাফল পেতে আপনাকে ক্রমাগত এটি অনুসরণ করতে হবে। চল শুরু করি:ত্রুটিগুলির জন্য আপনার পেন ড্রাইভটি পরীক্ষা করুন Checkপ্রথমত, স্টার্ট বোতামে নেভিগেট করুন এবং রান ক্লিক করুন।এখন, সিএমডি টাইপ করুন এবং এন্টার কী টিপুন।এখানে, প্রম্পটেড ক্ষেত্রে chkdsk e: / f কমান্ড যুক্ত করুন। (আপনি E কে ড্রাইভ লেটারের সাহায্যে প্রতিস্থাপন করতে পারেন) তারপরে, এন্টার কী টিপুন।পরবর্তীকালে, এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ফাইলগুলি মেরামত শুরু করবে। এর পরে, আপনি নিজের ফাইলের কিছু নাম দেখতে পাবেন। শেষ পর্যন্ত, এটি আপনাকে হারিয়ে যাওয়া ডেটা অন্য কোনও স্থানে সংরক্ষণ করার জন্য জিজ্ঞাসা করে। এই ক্ষেত্রে হ্যাঁ ক্লিক করুন।নিখরচায় বিন্যাসের জন্য জিজ্ঞাসা করে পেন ড্রাইভ থেকে ডেটা পুনরুদ্ধার করুনবিন্যাসের জন্য জিজ্ঞাসা করে পেন ড্রাইভ থেকে ডেটা পুনরুদ্ধার করার জন্য কোনও সরাসরি ম্যানুয়াল সমাধান পাওয়া যায় না। সুতরাং, ব্যবহারকারীরা অজানা বা ইচ্ছাকৃত কিছু অজানা সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে তাদের ইউএসবি ফর্ম্যাট করে। তবে, একবার কোনও ডিভাইস ফর্ম্যাট হয়ে গেলে কোনও ফ্রি সলিউশন ফর্ম্যাটযুক্ত ফ্ল্যাশ ড্রাইভ থেকে ডেটা পুনরুদ্ধার করতে পারে না। এখানে, আমরা এই বিশিষ্ট রেজোলিউশনের নামটি নিয়ে এসেছি SysTools Pen Drive Recovery Software ব্যবহারকারীরা সফ্টওয়্যারটি ডাউনলোড এবং ক্রয় করে। এই বিশিষ্ট সরঞ্জামটি ব্যবহার করে, আপনি পেনড্রাইভ থেকে দ্রুত আপনার ফর্ম্যাট ডেটা পুনরুদ্ধার করতে পারেন।মূলত, এই সরঞ্জামটি কলম ড্রাইভ থেকে দূষিত, ফর্ম্যাট করা এবং ঘটনাক্রমে মুছে ফেলা ডেটা পুনরুদ্ধার করার জন্য এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে। এই সরঞ্জামটি শীর্ষ 3 পুনরুদ্ধার অ্যাপ্লিকেশনগুলির আওতায় আসে এবং তথ্য পুনরুদ্ধার বিশেষজ্ঞদের দ্বারা 5-তারা রেটিং পায়। যাইহোক, এই সফ্টওয়্যারটি তাদের সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্যগুলির সাথে পুরো ডেটা পুনরুদ্ধার করে এবং প্রাকদর্শন করে। এই ফ্ল্যাশ ড্রাইভ ডেটা রিকভারি সফ্টওয়্যারটি এক্সএফএটি, ফ্যাট, এবং এনটিএফএস ফর্ম্যাটযুক্ত বাহ্যিক স্টোরেজ ড্রাইভগুলি থেকে পুনরুদ্ধার সমর্থন করে।তদুপরি, এই সরঞ্জামটি কোনও সংস্থার থেকে ডেটা পুনরুদ্ধার এবং পেনড্রাইভের ধরণগুলিকে সমর্থন করে। এবং কোনও সামঞ্জস্যতার সমস্যা নেই, প্রসারিতভাবে উইন্ডোজ ওএসের সমস্ত সংস্করণ সমর্থন করে।পেন ড্রাইভ থেকে ফর্ম্যাট ডেটা পুনরুদ্ধার করার জন্য ধাপে ধাপে গাইডএখানে, এই বিভাগে, আপনি পেন ড্রাইভ থেকে ফর্ম্যাট ডেটা পুনরুদ্ধার পদ্ধতি বাস্তবায়নের জন্য দিকনির্দেশ পাবেন। যদিও, আমরা সমস্ত পদক্ষেপগুলি একটি উপযুক্ত উপায়ে আলোচনা করেছি। পছন্দসই আউটপুট পেতে আপনাকে কেবল ক্রমিকভাবে সেগুলি সবগুলি অনুসরণ করতে হবে।পদক্ষেপ 1: -এখন আপনাকে সাধারণ স্ক্যানের পরিবর্তে ফর্ম্যাট স্ক্যান বিকল্পটি বেছে নিতে হবে। কারণ আপনার ফর্ম্যাট করা ফ্ল্যাশ ড্রাইভ থেকে ডেটা পুনরুদ্ধার করা দরকার। পদক্ষেপ 2: - তারপরে, অ্যাপ্লিকেশনটির ডান প্যানেলে পুনরুদ্ধার করা ফাইল এবং ফোল্ডারগুলির পূর্বরূপ দেখুনপদক্ষেপ 3: - অবশেষে, যে কোনও পছন্দসই স্থানে পুনরুদ্ধার করা ডেটা সংরক্ষণ করতে সেভ বোতামে ক্লিক করুন।সাতরে যাওএই ব্লগটি কীভাবে পেনড্রাইভ থেকে একটি ফর্ম্যাট চাইবে ডেটা পুনরুদ্ধার করবেন তা সমাধান করার জন্য ম্যানুয়াল এবং পেশাদার সমাধানটি হাইলাইট করে। মূলত, দুটি উপায়ই পর্যাপ্ত আলোচনা করা হয়। তবে, কখনও কখনও, যখন পেনড্রাইভ সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যবহারকারীরা ফ্রি পদ্ধতিটি কার্যকর করেন। কিছু সময়ে, তারা তাদের পেনড্রাইভটিকে ভ্রান্তভাবে ফর্ম্যাট করে এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা হারায়। চিন্তা করিও না! ইউএসবি ড্রাইভের ডেটা পুনরুদ্ধার সফ্টওয়্যারটির সাহায্যে পেনড্রাইভ থেকে ফর্ম্যাট হওয়া ডেটা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। এই সফ্টওয়্যারটি ব্যবহারকারী-বান্ধব ইন্টারফেসের সাথে আসে। যদিও, একটি অ প্রযুক্তিগত ব্যবহারকারী কোনও বাহ্যিক সহায়তা না নিয়ে ডেটা পুনরুদ্ধার পদ্ধতিও সম্পাদন করতে পারেন। সামগ্রিকভাবে, আমার লেখার পেনড্রাইভটি কীভাবে পুনরুদ্ধার করব?

Autism: What is Autism?
 24 June 2020  
Art

Autism is a disability which could be diminished by adopting structured and processed methodology.  Love is the cure for everything . Love your child, the way they are. If you are firm and follow structured approach ,you can do wonder for others!!!  Keep faith!!!        অটিজম কি এই অটিজম ,কেন আমার দুয়ারে তার আগমন?কেউ যদি বলে দাও ,কি করে করি তা প্রশমন?ভেবেছিলাম ,হবে সে সর্বগুণের কর্নধার এই সন্তান তো নিয়ে এলো এই ঘরে শুধুই আঁধার ।।পারে না কিছু বলতে ,না পারে একটু শান্ত থাকতেশুধু থাকে উদ্ভান্ত্রের মতো সারাদিন পাক দিয়ে  ঘুরতে ।।ঘুমের  মাঝেও থাকে অনর্গল দুর্বোধ্য শব্দ বলতেযেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করে থাকে তা নিয়ে খেলতে।।লোকে বলে এসেছে এক পাগল জীবন দুর্বিষহ করতেপরিবারের নাক কাটিয়ে ,অন্ধকারে সবাইকে ঠেলতে।।ওর অপার্থিব ব্যবহারে সবাই হয় অসন্তুষ্ট আর বিরক্তরোজ চড়, ধমক, মার চলে, পরিবেশ হয় খুবই তিক্ত।।এই  সপ্তবর্ষে  পড়াশোনা তো গেছে গোল্লায়কিছুই বোঝে না যে ,নেবে তাকে কে এই মহল্লায়?মা-বাবার মাথায় হাত, নিত্য তর্কে আসে নানান অজুহাতকার দোষ কার ত্রুটি ,এই খোঁজেই  সব হয় মাটি।।অবশেষে এলো এক গুণী, দূর করতে সমস্ত ভীতিধাপে ধাপে কিভাবে খেলাচ্ছলে  শেখাবে ওকে মানব রীতি।।হতে হবে তোমাকে  ধীর ,শান্ত,নিপুণ  কলাকারঅবোঝ ওই মাথায় দিতে হবে  নির্ভূল শানিত  আকার।।সব গুণ আছে সুপ্ত ওই  মাথায় লুকিয়ে  রাখাধীরে ধীরে ভালোবাসার ছোয়ায় দূর হবে সব বাঁধা।।করবে তোমাকে নাজেহাল, হয়ে উঠবে অতিষ্ঠকিন্ত হতে হবে তোমাকে একনিষ্ঠ,তাই উদ্যোগ চাই বলিষ্ঠ ।।মনে রেখো ধীরে ধীরে করবে ও  নদী পারধরে রেখো শুধু ওই হাতদুটো বারবার।।কোরো না কোনো  তুলনা , দেখো না কোনো অগাধ স্বপ্নের পাহাড়সচ্ছ কোমল মন এনে দেবে তোমার মনে খুশির বাহার।।ওই দেখো , পেরিয়েছে ও  কুড়িটি  বসন্তভাষা আর শিষ্টতা  পেয়েছে  অফুরন্তএঁকে চলেছে চিত্র  সব অনবদ্য আর  দুরন্ত ।।

My thoughts, My catharsis
 2 August 2018  
Art

Content : 1আত্মকথনতার নামের সঙ্গে একটি শব্দেরই তুলনা চলে,তা হল অনন্ত। তার না থাকাটা অনন্ত হয়ে রইল কোনও স্পর্শ স্বরের মতো। আর থাকাটাও। পূর্ণিমা গুনে গুনে আমি হিসেব কষে দেখি আমার ভালোবাসার বয়েস কত হল। তাতে খানিক চাঁদের কলঙ্ক মেশাই ,পোয়া ছটাক আলো আর আলটপকা কিছু কথা এসে পড়ে। যে সব কথার বেশির ভাগটাই খামখেয়ালি l দুখজাগানিয়া কথারা চলচ্ছক্তিহীন হয়ে কিছু মুহূর্তকে জিইয়ে রাখে কেবল।  আর আমি বুঝি আমার মনের ঝুলবারান্দায় ব্যথাগুলো, আমারই আশকারায়, আশনাইতে কেমন বেয়াড়া হয়ে উঠছে।একটা অনির্বাণ অনন্তকে আমি সলতে পাকিয়ে জ্বালিয়ে রাখি আর তার রেশটুকু মিশতে থাকে পুরিয়া ধানেশ্রীর বিষন্নতায়।

প্রবচনে নারী
 22 February 2018  

বাংলায় নারীদের সম্পর্কে বেশকিছু প্রবাদ-প্রবচন লক্ষ্য করা যায়।এগুলি প্রাচীন হলেেও আজও প্রাসঙ্গি্ক ও আধুনিক।নারী জাতির মধ্যে সবার আগে যিনি,তিনি হলে্ন আমাদের প্রিয় গর্ভধারিনী মা।এই মা কে নিয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রবাদটি হল 'ভাগের মা গঙ্গা পায় না।'এর অর্থ অত্যন্ত সহজ।আরো তিনটে জনপ্রিয় প্রবাদ-'মাতৃবৎ পরদারেষু' , 'মায়ের গলায় দিয়ে দড়ি, বউকে পরাই ঢাকাই শাড়ি,'এবং 'মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশী।'বউকে জব্দ করার জন্যও প্রবাদ সৃষ্টি হয়েছে'হলুদ জব্দ শিলে,বউ জব্দ কিলে।'কয়েকটি লৌকিক ছড়ায় নারী চরিত্র অসাধারনভাবে ধরা পড়েছে।যেমন-         'নিম তিত, নিশ্চিন্দে তিত,তিত মাকাল ফল          তার চেয়ে তিত কন্যে বোন সতীনের ঘর।'অথবা          'তুফানে যে হাল ধরে না,সেই বা কেমন নেয়ে           কথা পাড়লে বুঝতে পারে না সেই বা কেমন মেয়ে।'নারী বিষয়ে কোন বক্তব্যের সমর্থনে আর নিষেধে এই প্রবাদগুলির ব্যবহার হয়ে থাকে।তবে প্রবাদ গুলি কেবল নারীকেন্দ্রিক বিষয়ে আবদ্ধ নয়,এ যেন পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীকে নৈতিকতার বেড়াজালে আবদ্ধ রাখা।

"ম" মানে মরবেনা মাতৃভাষা
 22 February 2018  
Art

সেই দুধে আলতা রঙের যুবতীর চোখ দুটি ছিল রাইন নদীর মত নীল।নীলনয়নার কাঁধে এসে আটলান্টিক মহাসাগরের মত গর্জন করত সোনালি চুলের অহঙ্কার।এই মেয়ের প্রেমে না পড়ে পারা যায়?হ্যাঁ,আমিও প্রেমে পড়েছিলাম মারিয়া র।তখন সদ্য সদ্য ফেসবুকে ঢুকেছি।সেইসময় ছিল ছবি তোলার নেশা।সময় পেলেই আমার সদ্যকেনা ক্যানন ক্যামেরা নিয়ে বেরিয়ে পড়তাম আর এন্তার ছবি তুলতাম।সেই ছবিগুলি কে ফটোশপে এডিট করে বিভিন্ন ফটোগ্রাফি গ্র্ুপে পোষ্ট করতাম।কম্পিটিশন গুলোতেও নিয়মিত যোগ দিতাম।একটা গ্রুপ ছিল,ছিল মানে এখনও আছে-sunrise and sunset photography..যেখানে সানরাইজ এবং সানসেট এর ছবি পোষ্ট করা হয়।সেখানে সারা বিশ্বের সমস্ত ফটোগ্রাফার রা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের ছবি পাঠান।কী কুক্ষনে আমার মত এক আনাড়ির এক অতি সাদামাঠা সূর্যাস্তের ছবি(যেটি তুলেছিলাম হালিশহরের গঙ্গার ঘাট থেকে) সেই গ্রুপের শ্রেষ্ঠ ছবি(সেই মাসের)(দর্শকের বিচারে) হিসেবে বিবেচিত হল।সারা বিশ্ব থেকে অভিনন্দন আর শুভেচ্ছার বন্যা বয়ে গেল।বিখ্যাত ফটোগ্রাফার রা জানতে চাইছেন আমি ঠিক কোন অ্যাপার্চার ও সাটার স্পিড এবং অ্যাঙ্গেলে ছবি তুলেছি,কেন সাবজেক্ট হিসাবে নদী কে বাছলাম..ইত্যাদি।কেলেঙ্কারি..আমি যে ওসব মাথায় রেখে আদৌ ছবিটা তুলিনি..জাষ্ট তুলে ফেলেছি..তারপর ক্যাসুয়ালি পোষ্ট করে দিয়েছি-তা ওদের বোঝাই কী করে!এই ছবিটা দেখেই আমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েষ্ট পাঠান বিখ্যাত ফটোগ্রাফার শ্রী শক্তি চৌধুরী ও শ্রী পরিতোশ দাস।শক্তি দা ও পরিতোশ দা র কাছ থেকে কত যে অমূল্য টিপস পেয়েছি!তারমধ্যে একটা টিপস ছিল-অয়ন,তোমার প্রতিটি ছবির মধ্যে যেন একটা গল্প লুকিয়ে থাকে।যে ছবিতে গল্প নেই-সে ছবি ছবিই না।একদিন দেখি ছবিটার নিচে বেশ কয়েকলাইন কমেন্ট করেছে এক সোনালি চুলের রাজকন্যা।লেখার মাথামুন্ডু কিচ্ছু বুঝছিনা কারন হরফটাই অচেনা।মেয়েটি চেকোস্লোভাকিয়া তে থাকে।সেও আমারই মত শখের ছবিতুলিয়ে।আমরা বন্ধু হলাম।এরপর দুজনেই যখন ফেসবুকে অন -তখন চ্যাট করলাম-hi maryaমেয়েটি চেক বর্ণমালায় কিছু একটা লিখল।এরপর আমাদের চ্যাট হয়েছিল মোটামুটি এরকম-Don't you know English?Gjhy vgmk hsnjBut I don't know this language..sorry..please write in English..Gnmk bvcxz bmkkggk chhjdfbjj nvxhjkcb nbbcxz mnjkghkWhat's your profession mariya?Zccfdhhdh bncgjjffjjjk nnvxgjnk mmkgfdhj vcghftr vbchfhjআরে এ মেয়ে তো নিজের ভাষার বাইরে অন্য কোনো ভাষাই জানেনা!এর সঙ্গে কথা বলব কী করে?এইবার আমিও দুষ্টুমি শুরু করলাম।তোমার নিজের ভাষার প্রতি অহঙ্কার থাকতে পারে আর আমার পারেনা?অতএব আমিও বিশুদ্ধ বাংলা হরফে লেখা শুরু করলাম।মারিয়া আমি তোমার ঠোঁটে চুমু  খেতে চাই..দেবেতো?Zcvngfgjjbjh vfhgdh hg dg j hg hjjjkkcvjতোমার সোনালি চুলে আমি হারিয়ে যতে চাই....আমি যে বহুদিন কোথাও হারাইনি..তুমি আমার সঙ্গে হারিয়ে যাবে?Dgfghjjju bbdghnxfgnk nngfzhjcxvj bgmhch bhj njfg bb mgdjjকখন তোমার দেখা পাবো,চোখের পাতায় চুমু খাব,চোখের তারায় জিজ্ঞাসা-বলো,কাকে বলে ভালবাসা?Zcfffghj nmvgkk vfgonvg vcfjnbfh nmjএইবার আমার শেষ দুষ্টুমি,কিচ্ছু না লিখে একটা সাইন পাঠালাম। এই সাইনের মানে একটাই।অতএব মারিয়ার কাছ থেকে যে উত্তর টা পেলাম সেটা কিন্তু হায়!আর এগোতে পারিনি।আমরা দুজনে শুধু দুজনের ছবিতে লাইক দিতাম।ও লিখতো-zfdsgh njffjk thidfjj ?আমি উত্তরে লিখতাম-হ্যাঁ হ্যাঁ আমি ভাল আছি,তুমি ভাল তো..একসময় মারিয়া নামের রাজকন্যা টি হারিয়ে গেল।একটা অসাধারন ছোটোগল্প মাঝপথে থেমে গেল।ভাষা হল সেতু।গুপি গাইন বলেছিল না-ভাষা এমন কথা বলে বোঝেরে সকলে,উঁচা নিচা ছোটো বড় সমান-মোরা সেই ভাষাতেই করি গান...-----------------------------------------আজ থেকে ৮০০০বছর আগে নতুন প্রস্তর যুগের মানুষ প্রথম কথা বলতে পেরেছিল।তার আগে মানুষ শুধু শব্দ করে আর ইশারা তে মনের ভাব প্রকাশ করত।কথা বলতে পারার পরও তারা ইশারার ব্যবহার ত্যাগ করেনি।এখনও পৃথিবীর সব দেশের সব ভাষার মানুষের ইশারার ভঙ্গি ও অর্থ এক।এই ভাষা আবিস্কারের ফলেই কিনতু মানুষ পৃথিবীকে ডমিনেট করতে পারল।এই মুহূর্তে পৃথিবীতে ২৭৯৬ টি ভাষা প্রচলিত।তার মধ্যে প্রধান ভাষা ১৬০টি।আর ভারতে ১৬৫২টি ভাষার মধ্যে প্রধান ভাষা হল ২২টি।যথা-হিন্দি,বাংলা,তেলেগু,তামিল,মারাঠি,গুজরাটি,মালয়ালম,কন্নড়,ওড়িয়া,পাঞ্জাবি,অসমিয়া,সিন্ধি,নেপালি,কোঙ্কনি,মণিপুরি,কাশ্মীরি,সংস্কৃত,বোরো,ডোগরি,মৈথিলি ও সাঁওতালি।মজা হল-অঞ্চলভেদে আমাদের বাংলা ভাষার কথ্য রূপও পাল্টে যায়।মজা দেখুন-কলকাতা-ছোটো ছেলেটি তার বাবাকে বললঢাকা-ছোটো ছাওয়াল তার বাপেরে কইলোকোচবিহার-ছোটো বেটা উয়ার বাপোক কইলোপুরুলিয়া-ছুট্ বেটা তার বাপকে বল্লেকচট্টগ্রাম-ছোড়ুয়া পোয়া তার ব-রে কইলো।-----------------------------------এই যে আমরা গল্প লেখার জন্য একেবারে মুখের ভাষা ব্যবহার করি-এর সুচনা হয় ১৮৫০সালের পর থেকে।কারন লেখকরা কিছুতেই অশিক্ষিত বা কম শিক্ষিত মানুষের কাছে পৌঁছতে পারছিলেননা।এইবার মুশ্কিল হল একএক জায়গার তো একএক কথ্যরূপ।তাহলে কোনটা নেওয়া হবে?এইসময় বেশ একটা পলিটিক্স হয়েছিল।কলকাতা,নদীয়া,২৪পরগনা তে যেহেতু পন্ডিত দের সংখ্যা বেশি-অতএব এখানকার কথ্য ভাষাই সাহিত্যের ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেল।এইবার ভাষা হয়ে উঠল জীবন্ত।লেখকরা সাধারন মানুষের মনে জায়গা পেলেন।একটা কথা জানলে অবাক হই যে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে আজ থেকে ১০০০ বছর আগে অথচ বাংলা ব্যকরন প্রথম রচিত হয় মাত্র পৌনে তিনশো বছর আগে।শুনলে অবাক হবেন প্রথম বাংলা ব্যকরন লেখেন একজন সাদা চামড়ার সাহেব।নাম-মানোয়েল দ্য আস্সুম্পসাম।১৭৪৩সালে পোর্তুগালের লিসবন শহরে রোমান অক্ষরে তা ছাপা হয় কারন 'ছাপার' জন্য বাংলা অক্ষর তখনও তৈরি হয়নি।১৭৭৮সালে নাথানিয়েল হ্যালহেড নামের এক ইংরেজ ইংরেজি ভাষায় একটি বাংলা ব্যকরন বই লেখেন যেখানে প্রথম ছাপার সময় বাংলা অক্ষর ব্যবহৃত হয়।রাজা রামমোহন রায় হলেন প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ব্যকরণ বই লেখেন ১৮২৬ সালে।দুঃখের বিষয় এই বইটিও ইংরিজিতে লেখা।১৮৩৩সালে এই বইয়ের বাংলা অনুবাদ বাজারে প্রকাশিত হয় ও অচিরেই তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।(তথ্য সংগ্রহ-রণেন গুপ্ত-নবোদয় ব্যকরণ)নিজের ভাষাকে মাতৃভাষা বলে কে যে সম্বোধন করেছিল কে জানে,তবে এর চেয়ে মোক্ষম শব্দ আর নেই।মায়ের মতই প্রিয় হয় ভাষাও।আমার বড় গর্ব হয় আমি বাংলায় লিখি বলে।অথচ আমাদের ছেলেমেয়েগুলো কে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াই বলে ওরা বাংলা ভাষাকে অপছন্দ করে,বাংলা পড়তে গেলে জ্বর আসে।ইংরিজি ওদের ভালবাসার ভাষা।আজকের অধিকাংশ মা এর ঠাঁই যেমন বৃদ্ধাশ্রমে তেমনি মাতৃভাষা টাও বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই পাবেনাতো?অন্তত তার আগে যেন আমার মৃত্যু হয়।

মখমলি ফুলকপি
 21 February 2018  

উপকরনঃ- ১ টি ফুলকপি(মাঝারি টুকরো করা),কাজুবাটা(৮/১০ টি),আদা(১ ইঞ্চি),২টি বড় টম্যাটো,হাফ কাপ দুধ,কসুরি মেথি(সামান্য),লঙ্কাগুঁড়ো পরিমান মতো,নুন,মিষ্টি,রিফাইন্ড তেল,ঘি অল্প,ছোট এলাচ ৩টিপ্রণালী ঃ- ফুলকপি জলে ভাপিয়ে জল ফেলে দিন।কাজুবাদাম দুধে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে মিহি করে বেটে নিন।টম্যাটো এবং আদা মিক্সিতে বেটে নিন।এবার কড়াইতে রিফাইন্ড তেল দিন।তেল গরম হলে ফুলকপির টুকরোগুলো ভালো করে ভেজে তুলে রাখুন।এবার কড়াইতে সামান্য ঘি দিয়ে ছোট এলাচ ফোড়ন দিন।সুগন্ধ বের হলে আদা এবং টম্যাটো বাটা দিয়ে কষুন।এবার নুন,মিষ্টি লঙ্কাগুঁড়ো দিন।মশলা কষানো হলে ভাজা ফুলকপি আর সামান্য জল দিয়ে ঢাকা দিন।কপি সেদ্ধ হলে কাজুবাটা আর কসুরি মেথি দিন।এবার দুধ দিয়ে ফুটিয়ে গা মাখামাখা হলে নামিয়ে নিন।এটি ভাত,রুটি পরটা সবকিছুর সাথে ভালো লাগে।

মাতৃভাষা দিবস
 21 February 2018  

"যে ভাষার জন্যেএমন হন্যে, এমন আকুল হলাম-সে ভাষা তে আমার অধিকার"।আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।আমরা যারা বাংলায় সামান্য লেখালিখি করি তাদের কাছে আজ এক পূণ্যতিথি।আজ এক পুজোর ও উৎসবের দিন।কিন্তু মাতৃভাষাকে আমরা-মানে এপার বাংলার বাঙালি রা ঠিক কতখানি সম্মান ও সমাদর করতে পেরেছি!চতুর্দিকে বিদেশী ভাষার জয়জয়াকার।আমাদের ছেলেমেয়েরা প্রায় কেউই বাংলা মাধ্যমের ছাত্রছাত্রী নয়।তারা ঠিক কতখানি বাংলা সাহিত্য পড়বে ও বুঝবে!আমাদের পরের প্রজন্ম বাংলা সাহিত্য সেভাবে পড়বেইনা।তারা বাঙালি লেখক বলতে বুঝবে অমিতাভ ঘোষ কে।বাংলা সাহিত্যের এই বিপুল রত্নভান্ডার হয়তো ধুলি ধুসরিত হয়ে পড়ে থাকবে।এই অভিশাপের থেকে বোধহয় আমাদের পরিত্রান নেই।অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে আমি দেখতে পাচ্ছি আজ থেকে পঞ্চাশ ষাট বছর পরে বাংলাভাষা শুধুই বেঁচে থাকবে বাংলাদেশে আর পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হবে ইংরেজী ও বাংলা মেশানো এক জগাখিচুড়ি ভাষা।সেইসময় এক কিশোরী তার দাদুকে হোয়াট্সঅ্যাপ করবে-"কখন থেকে ওয়েটিং ফর ইউ বাট তুমি আমাকে এখনও রেপ করলে না!দাদু হয়তো ভিরমি খেয়ে পড়তে পড়তে অবশেষে বুঝতে পারবে-রিপ্লাই এর ছোট সংস্করন হল রেপ।কবীর সুমন বহুদিন আগে লিখেছিলেন -"পুবের ঐ উদ্বোধনে পশ্চিমেরও বোধন হোক/একুশে ফেব্রুয়ারী আমার আলো আমার চোখ"॥

প্রেমিকা এবং আমি
 21 February 2018  
Art

#প্রেমিকা_এবং_আমি--------------------© সিলভিয়া ঘোষ ---কি হলো রাস্তার মধ্যে এইভাবে কেউ হাত ধরে চুমু খায় ?----কি হয়েছে একটু আদর করলে ?তুমি তো আমার !---সে যতই তোমার হইনা কেন সবকিছুর একটা স্থান ,কাল ,পাত্র থাকে তো নাকি ?---পাগলী,  এটা বিদেশ ! এখানে হাত ধরলে বা প্রকাশ্যে চুমু খেলেও কেউ কোন প্রতিবাদ করেনা ।---ছিঃ ,তুমি এতটা পাল্টে যাবে ভাবতে পারিনি।তবে যে আগে বলতে......----আজও  বলছি 'প্রিয়তমা তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা '.....---থামো থামো কত যে ভালোবাসো তা বোঝা গেছে !কই আজ যে অন্যকারোর প্রেমিকার সাথে আমার তুলনা করলে না ? কি ব্যাপার বলো দেখি ?---তুলনা আর তোমার সাথে ? হা হা পাগলী তোর এলোমেলো চুল যখন আমার মুখে এসে পড়ে  আমি আমার মা এর গায়ের গন্ধ পাই,তোর দুচোখে চোখ রাখলে আমি যে আমার মায়ের জলচ্ছবি দেখতে পাই,তোর হাতে হাত রাখলে আমার তোর সব অনুভূতি মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় আর .....----আর কি বলো না !----আর তোর দু ঠোঁটে ঠোঁট রাখলে আমার সব উচ্চারিত --অনুচ্চারিত কথারা প্রকাশিত হয়।লড়াই তো অনেক দেখেছিস কিন্তু  তোকে নিয়ে  আমার এই লড়াই ক' জনা দেখেছে বলতো !আজ তোকে বড্ড ভালো লাগছে রে। এবার থেকে এমনি সব সময় সেজে থাকবি !কেমন থাকবি তো ?----আহা কত আমাকে ভালোবাসার বর্ণনা শুনালে তা দেখলাম .....সারাক্ষণ শুধু 'মা ' 'মা '।তা তোমার মায়ের নাম না কি শুনি ?---একি তুমি জানো না! আমার মায়ের নাম তো --'বাংলা ভাষা'।----তা হলে আমি ? আমি কে ?--- --তুমি ,তুমি হলে আমার 'শব্দ কণিকা'।এইভাবেই সারাটা জীবন আমার পাশে থেকো ,দৃঢ় ভাবে  ধরো  আমার দু হাত।আজ চিৎকার করে বলতে চাই 'ভালোবাসি  ভালোবাসি ভীষণ ভালোবাসি  তোমায় স্বরমালিকা' ।

আ মরি বাংলা ভাষা
 21 February 2018  
Art

#আ মরি বাংলা ভাষা#দেবদত্তা ব‍্যানার্জীএকটু জেদ করেই মিতা ছেলেকে ঐ দূরের কনভেন্টে ভর্তি করেছিল। বাড়ির কাছাকাছি যে দুটো ইংরেজী স্কুল ছিল একটাও কনভেন্ট না এই ছিল মিতার বক্তব্য। রমা দেবী দীর্ঘ দিন শিক্ষকতা করেছেন এই এলাকারই একটি সরকারী বাংলামাধ‍্যম স্কুলে। কিন্তু ওনার পুত্রবধু মিতা এই বাংলা স্কুলের চাকরিকে পাত্তাই দেয় নি কখনো। মিতা নিজেও কনভেন্টে পড়েছে, ছেলেকে ও কনভেন্টে না পড়ালে নাকি ভবিষ্যত নেই......। রমাদেবী দু এক বার বোঝাতে গিয়েও হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। আসলে এ সব নিয়ে ছেলের বৌএর সাথে বেশি কথা বলতে ওনার রুচিতে বাধতো।ঋত খুব ভাল ছেলে।খুব বুদ্ধিমান। ওর ওপর যা চাপ দেখে রমাদেবীর খুব কষ্ট হয়। ভোরে উঠে সেই দূরের স্কুলে যেতে হয় ওকে। ফিরতে ফিরতে বিকেলে তিনটা।বিকেলে আবার সাঁতার, ক‍্যারাটে, আ্যবাকাস,আঁকার ক্লাস থাকে।সন্ধ‍্যায় টিচার আসে পড়াতে।আগে স্কুল থেকে ফিরে একটু ঠাম্মির কাছে আসত ঋত। আজকাল আর সময় পায় না। এর মধ‍্যে মিতার আবার শখ ছেলেকে একটা দাবা নয় টেবিলটেনিস শেখাবে। সাঁতারের সিজিন শেষ হলেই ভর্তি করবে ভেবেছিল মিতা। শুভর আবার ইচ্ছা ছেলেকে গান শেখাবে। কিন্তু মিতার বক্তব‍্য গান প্রাকটিস করার সময় নেই ঋতের। গান কি শুধু শিখলে হয়। প্রচুর গলা সাধতে হয়। তার চেয়ে গিটার ভাল। ঋতের ইচ্ছা অনিচ্ছার কথা কেউ ভাবতো না। ওইটুকু ছেলের আবার কিসের ইচ্ছা আর শখ !! ঋত শুধু সব কিছু করেও একটু ঠাম্মার সাথে সময় কাটাতে চাইতো। কিন্তু ওর জীবনে সময়ের যে বড্ড অভাব ছিল।সে দিন সন্ধ‍্যায় হঠাৎ ঋত এসে ঠাম্মীকে ধরলো -"আমায় একটু বাংলা শেখাবে ঠাম্মী।"-"আমি তো শেখাতেই পারি, কিন্তু ভাই মা বাবা যদি বকে?"রমাদেবীর কথায় ঋতের মুখটা কালো হয়ে গেলো। মিতার ইচ্ছাতে ওর স্কুলের দ্বিতীয় ভাষা হিন্দি। এ বছর ও ফাইবে ওঠার পর ও তৃতীয় ভাষা বাংলা নিতে চেয়েছিল, কিন্তু ওর বাবা মা বলেছিল ফ্রেঞ্চ নিতে। একটা ফরেন ল‍্যাঙ্গয়েজ শেখা যে ওই ৯বছরের বাচ্চাটার জন‍্য খুব দরকার ছিল।মাঝে মাঝে রমাদেবী ভাবেন শিক্ষা ব‍্যবস্থাতে কতো পরিবর্তন এসেছে। ওনার শ্বশুরমশাই ছিলেন বাংলাভাষা আন্দলনের একজন শহীদ, আর আজ ওনার নাতির কাছে এই মাতৃভাষা ডেড ল‍্যাঙ্গয়েজ। রমাদেবী বাংলা মাধ‍্যম স্কুলে অঙ্কর দিদিমনি, অথচ নাতিকে ওনার পড়াবার অধিকার নেই। ওনার পুত্রবধু ইংলিশ মিডিয়ামের অথচ নিজে না পড়িয়ে টিচার রেখেছে ঐ ৯বছরের ছেলের জন‍্য। বাড়ীতে ঋতের বাংলা বলা বারন। সারাক্ষন ইংলিশ না বললে নাকি ওর কথা সাবলীল হবে না। রমাদেবীর মাঝেমাঝে খুব কষ্ট হয়, অথচ কিছু বলতে পারেন না। মিতাকেও উনি দোষ দিতে পারেন না, চারদিকে সবারি এক অবস্থা, সব বাচ্চা গুলো ছুটে চলেছে। এ এক অদ্ভুত প্রতিযোগিতা। মিতার চিৎকারে বাইরে আসতে বাধ‍্য হলেন রমাদেবী। যা বুঝলেন স্কুলের বার্ষিক ট‍্যালেন্ট কনটেস্ট এ ঋত কোন বিষয়েই প্রাইজ পায় নি। খুব বকা খাচ্ছে ছেলেটা। ওর সব বন্ধুরাই নাকি কোন না কোন বিষয়ে প্রাইজ এনেছে। রমাদেবী নাতিকে আড়াল করে নিজের ঘরে নিয়ে আসেন। এরপর শুভ ফিরলে আর এক চোট হবে জানা কথা। বিধস্ত ঋতের সাথে কথা বলে উনি বোঝেন যে বাচ্চাটা কোনো কিছুতেই আনন্দ পাচ্ছে না। অথচ ঋত বরাবর দারুন ছবি আঁকতো। ক‍্যারাটে আর সাঁতারেও প্রচুর প্রাইজ আনতো এতোদিন। ওর জন‍্য খুব কষ্ট হয় রমাদেবীর। গল্প বলে ওকে ভোলানোর চেষ্টা করেন উনি। না খেয়েই ঘুমিয়ে যায় ঋত।আজ মিতা আর শুভ খুব ব‍্যস্ত। ঋতের স্কুলে আজ আ্যনয়েল ডে, ভাষা দিবস উপলক্ষ‍্যে স্কুলে বাংলা ভাষায় বক্তব্য রাখার প্রতিযোগিতা হয়েছিল, সারা স্কুলের মধ‍্যে প্রথম হয়েছে ঋত। ওর হাতে প্রাইজ তুলে দিয়ে ওকে কিছু বলতে অনুরোধ করলেন প্রিন্সিপাল । শুভ আর মিতা অবাক হয়ে দেখল ঠাম্মীর কাছে শোনা নিজের প্রপিতামহের ভাষা আন্দোলনের গল্প সুন্দর গুছিয়ে বলে চলেছে তাদের কনভেন্টে পড়া ছেলে। রক্তে যে ভাষার টান তাই দিয়ে এক অপূর্ব ছবি একে চলেছে ঋত। অজান্তেই বাবা মা এর চোখ জলে ভরে ওঠে।